সাহায্য চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছে বেদে সম্প্রদায়ের চার শিশু-কিশোরকে। রোববার বেলা ১১টার দিকে শহিদুল ইসলাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তি ওই শিশু-কিশোরদের মারধরের পর চাল এবং টাকা ছিনিয়ে নেয়। এঘটনায় গতকাল সোমবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সম্প্রদায়ের সর্দার ইশারত আলী ।
ইশারত আলী তার সম্প্রদায়ের লোকজন নিয়ে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারবারিষা ইউনিয়নের উদবাড়িয়া গ্রামের একটি আম বাগানে তাবু পেতে থাকছেন। অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম একই ইউনিয়নের চলনালী পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক শাহ’র ছেলে।
বেদে সম্প্রদায়ের সর্দার ইশারত আলী জানান, নদী ভাঙ্গনে বসত ভিটা হারিয়ে এখন তারা বাস্তহারা। সাপ খেলা দেখিয়ে সাহয্য তুলেই তারা জীবিকার ব্যবস্থা করেন। সকাল হলেই সম্প্রদায়ের লোকজন জীবিকার তাগিদেু চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েন। কেউ সাপ খেলা দেখান, কেউ বাথ ব্যাথার চিকিৎসা দেন, কেউ সাহায্য তোলেন। নির্যাতনের শিকার মাসুদ রানা (১১), জুনাইদ হোসেন (৮), জীবন হোসেন (১০) ও আলিউল হোসেন (১২) সাহায্য তুলতে বের হয়েছিল।
নির্যাতনের শিকার ওই চার শিশু-কিশোর জানায়, চলনালী গ্রামের শহিদুল ইসলামের বাড়িতে তারা সাহায্যের জন্য গিয়েছিল। সাহায্য না দিয়ে তাদের ধমকাচ্ছিলেন শহিদুল। এতে তারা ভীত হয়ে পরে। একপর্যায়ে শহিদুল তাদের কিলঘুষির সাথে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এসময় স্থানীয় এক ভ্যানচালক তাদের ছাড়িয়ে দেন।
স্থানীয় ভ্যানচালক রমজান আলী জানান, তার চোখের সামনেই ওই শিশু-কিশোরদের মারধর করছিলেন শহিদুল ইসলাম। তিনি প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলা করেন শহিদুল। শহিদুলের বিরুদ্ধে এরআগেও একাধিক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিশুরা মিলাদ করার নামে চাউল নিতে বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল। শিশুদের ধমক দিয়েছিলেন তিনি। একারণে ভয় পেয়ে শিশুরা চাউলের থলে রেখে চলে গেছে।
গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক ইমারান হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, এব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।