২৮ আগস্ট, ২০২৩

প্রিয় গোলে পাগল মারা গেছেন

         

নিহত গোলে পাগল |— ছবি মুক্ত প্রভাত


সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন উল্লাপাড়া পৌর বাজারের বহুল পরিচিত গোলে পাগল। বয়স আনুমানিক ৫৯ বছর ।

সোমবার সকালে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। রোববার বিকেলে উল্লাপাড়া পৌর শহরের শ্রীকোলা বাসস্ট্যান্ডে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।

উল্লাপাড়া বাজারের লোকজন দ্রুত তাকে  বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকোল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ১৯৮৪ সালের দিকে মানসিক প্রতিবন্ধী একটি মেয়ে উল্লাপাড়া বাজারে আসে। তখন তার বয়স হবে ১৭/১৮ বছর।

তিনি তার বাড়ির ঠিকানা বলতে পারতেন না। বলতে পারতেন না বাবা মার নামও। শুধু তার নাম গোলে বলে উল্লেখ করতেন। এরপর থেকে উল্লাপাড়া বাজারে গোলেপাগল নামে তিনি পরিচিত ছিলেন।

অত্যন্ত বিশ্বাসী ও সদাচরণের মেয়ে হওয়ায় বাজারের সবাই তাকে ভালো বাসতেন। বিশেষ করে তার বেশির ভাগ অবস্থান ছিল কাঁচা বাজারে। 

উল্লাপাড়া কাঁচা বাজারের প্রবীন ব্যবসায়ী জোনাব আলী জানান, কাঁচা বাজারের দোকানীরা তাকে খেতে দিতেন এবং পরনের কাপড় চোপড় দিতেন। বাজারে আসা লোকজনও ২/৪ টাকা তার হাতে তুলে দিতেন।

বাজারের দোকানের বারান্দা বা মাছের শেডে রাতে ঘুমাতেন তিনি। দোকানীরা গোলে পাগলের দিকে সব সময় সু-নজর রাখতেন। পুরো শহরই ঘুরে বেড়াতেন তিনি। এভাবেই ৪০ বছর কেটে গেছে তার এই বাজারে। এই দীর্ঘ সময়ে উল্লাপাড়া থেকে কোথাও যাননি গোলে। রোববার হঠাৎ করেই বাজারের নিকটবর্তী শ্রীকোলা বাস স্ট্যান্ডে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।  

উল্লাপাড়ার অপর মিকাইল হোসেন জানান, গোলে পাগলের মৃত্যুতে উল্লাপাড়া পৌর বাজারে  সমস্ত দোকানীরা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন। সবাই তাকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন। অনেকেই এখন কাঁদছেন গোলের জন্য। পৌর বাজারের অপর ব্যবসায়ী সুজন সাহা বললেন, আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন গোলে। 

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম গোলের দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। 

উল্লাপাড়া বাজার বণিক সমতির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহিদুজ্জামান কাকন জানান, ময়নাতদন্ত শেষে গোলেকে কাওয়াক কবরস্থানে দাফন করা হবে।