৮ নভেম্বর, ২০২৬

মার্কিন শুল্ক চুক্তি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন: নাসিম মঞ্জুর

মার্কিন শুল্ক চুক্তি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন: নাসিম মঞ্জুর

অর্থনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও খোলামেলা আলোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা এই চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা জানান, চুক্তিতে দেশের অর্থনীতির জন্য কী ধরনের সুযোগ রয়েছে এবং কী ধরনের ঝুঁকি বা চ্যালেঞ্জ লুকিয়ে আছে, তা স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা জরুরি। অন্যথায় এই চুক্তির প্রকৃত সুফল দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত করা সম্ভব হবে না বলে তারা সতর্ক করেন।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ এবং ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ইউএস ট্রেড শো অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলার সমাপনী দিনে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, চুক্তির ফলাফল ও দায়ভার বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে, তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এর প্রতিটি ধারা নিয়ে বিশদ আলোচনা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, এই চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি বড় চালিকাশক্তি হতে পারে, তবে এর জন্য কমপ্লায়েন্স এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের সন্ধানযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বাড়তি খরচের প্রস্তুতি রাখতে হবে। পাশাপাশি মার্কিন শুল্ককাঠামো গভীরভাবে বিশ্লেষণেরও পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন জানান, মার্কিন বাজারের শুল্ক সুবিধা পেতে হলে উদ্যোক্তাদের উৎপাদনশীলতা ও কর্মদক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও এই সক্ষমতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ বলেন, চুক্তির সুফল পুরোপুরি কাজে লাগাতে রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে আরও নিবিড় যোগাযোগ ও আলোচনা প্রয়োজন। তবে এই চুক্তির প্রভাবেই নতুন অনেক মার্কিন ক্রেতা এখন বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছেন, যা দেশের রপ্তানি খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।