আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে এবার অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। দেশটিতে তীব্র মুসলিমবিরোধী মনোভাব এবং বিভিন্ন নেতিবাচক রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রভাব সত্ত্বেও এই প্রার্থীরা নিজেদের বিজয়ের পতাকা ওড়াতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন নীতিনির্ধারক পর্যায়ে এই সাফল্য মার্কিন মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও প্রভাবকেই জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত এক প্রজন্মের মধ্যে মার্কিন মুলুকে ইসলামভীতি এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণার মাত্রা যখন চরমে পৌঁছেছিল, ঠিক তখনই এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হলো। সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা প্রতিকূলতা এবং বৈষম্যের দেওয়াল ভেদ করে ১০০ জনেরও বেশি মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এই বিজয় প্রমাণ করে যে, সাধারণ মার্কিন ভোটারদের একাংশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির ঊর্ধ্বে ওঠে যোগ্যতা ও নাগরিক অধিকারকে মূল্যায়ন করার প্রবণতা বাড়ছে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় এই মুসলিম প্রার্থীরা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। তাঁরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাঁদের সমস্যা শোনার মাধ্যমে প্রার্থীরা স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদের বাক্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের এই ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই বিজয় শুধু বিজয়ীদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতার উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। আগামী দিনে এই প্রতিনিধিরা মার্কিন সমাজ গঠনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।