ফিচার ডেস্ক: ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা করার প্রবল আগ্রহ ছিল রাজশাহীর তরুণী জাহিদা আক্তার বৃষ্টির। মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি এই মহৎ পেশাকে বেছে নেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকেই এগিয়ে যান। তিনি ২০১৯ সালে রাজশাহীর গ্লোবাল নার্সিং কলেজে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সে ভর্তি হন। তিন বছর মেয়াদি এই কোর্স সফলভাবে শেষ করার পর প্লাজমা হাসপাতালে চাকরির মাধ্যমে তার পেশাজীবন শুরু হয় এবং বর্তমানে তিনি রাজধানীর গুলশানের সাহাব উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কর্মজীবনের নানা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জাহিদা জানান, একবার একসঙ্গে অনেক রোগী ভর্তি হওয়ার কারণে জনবল সংকট দেখা দিলেও তিনি ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। গুরুতর রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এবং সহকর্মীদের সঙ্গে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে তিনি সফলভাবে সেই কঠিন সময় পার করেন। এই পেশায় কাজ করতে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা অনেক সময় হৃদয়ে গভীর দাগ কেটে যায়। প্লাজমা হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা তার মনে এখনো গভীর বেদনার সৃষ্টি করে, যা তিনি ককনো ভুলতে পারবেন না বলে উল্লেখ করেন।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিন বোনের মধ্যে সবার বড় হওয়ায় তার কাঁধে পারিবারিক দায়িত্বও কিছুটা বেশি রয়েছে। তার মা বর্তমানে অসুস্থ থাকায় এবং বাবা দূরে অবস্থান করায় মায়ের পাশে থাকতে না পারার মানসিক যন্ত্রণা তাকে প্রায়ই তাড়া করে বেড়ায়। তবে সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং পরিবারের মানসিক সমর্থনের কারণে তিনি এই প্রতিকূলতা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পান।
নার্সদের সামাজিক মর্যাদা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে জাহিদা বলেন, দেশের নার্সরা এখনো কাজের তুলনায় যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন পান না। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা বা সহানুভূতি পাওয়া যায় না। এছাড়া অপ্রতুল জনবল, নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নার্সদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। রোগীর অনুপাতে নার্স নিয়োগ করা হলে সেবার মান আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।