৪ নভেম্বর, ২০২৬

৫ বছরের মধ্যে ১৫০ গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন হবে যেভাবে

৫ বছরের মধ্যে ১৫০ গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন হবে যেভাবে

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে মোট ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন এবং বিদ্যমান কূপগুলোতে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম পরিচালনা করার একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্তোলন বাড়িয়ে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি দূর করা। পেট্রোবাংলা এবং পরিকল্পনা কমিশনের যৌথ প্রচেষ্টায় বাস্তবায়নাধীন এই কর্মসূচির মাধ্যমে দৈনিক ১ হাজার ৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটি দুটি সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে বাস্তবায়ন করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এবং তা ২০৩১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ১৫০টি কূপের মধ্যে ১০৪টি নতুন কূপ খনন করা হবে এবং বাকি ৪৬টি কূপে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চালিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। ইতিমধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কূপকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এবং সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া ৩২টি কূপ থেকে দৈনিক অতিরিক্ত ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি কূপের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের অধীনে একাধিক কূপের খনন ও উন্নয়ন কাজ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা নতুন প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হলে গ্যাস উত্তোলনের প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে গ্যাসের অনুমোদিত চাহিদা দৈনিক ৫ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও প্রকৃত ব্যবহার প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দৈনিক গড় সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট হওয়ায় সবসময়ই একটি বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যায়। মোট সরবরাহের একটি বড় অংশ আমদানিকৃত এলএনজি এবং আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে পূরণ করতে হয়, যা দেশীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ জোরদার করা গেলে এই আমদানিনির্ভরতা অনেক কমে আসবে। দেশীয় কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কূপ থেকে গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুদূরপ্রসারী করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।