৩ নভেম্বর, ২০২৬

ইতিহাসবিদ আব্দুল জলীলকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ

ইতিহাসবিদ আব্দুল জলীলকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ

জাতীয় ডেস্ক: প্রখ্যাত সাহিত্যিক, গবেষক এবং ১৯৪৭ সালের বাউন্ডারি কমিশনের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এ এফ এম আব্দুল জলীলের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে খুলনা মহানগরীর আহসান আহমেদ রোডের নূর মঞ্জিলে একটি স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিশিষ্ট এই মনীষীর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন অঙ্গনের গুণীজন এবং বুদ্ধিজীবীরা এই অনুষ্ঠানে সমবেত হন। খুলনা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মরহুমের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তার কর্মময় জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে আমন্ত্রিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম আলিম এবং সিটি ল কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট এম এ আউয়াল। এছাড়া কথাসাহিত্যিক ফিরোজ আহমদ, সাংবাদিক আবু আসলাম বাবু, গবেষক মনিরুজ্জামান লাভলু ও নারী নেত্রী শামীমা সুলতানা সিলুসহ আরও অনেকেই আলোচনায় অংশ নেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এ এফ এম আব্দুল জলীল সাহিত্য ও ইতিহাস গবেষণার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ৫৬টি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করে গেছেন, যা আমাদের জাতীয় সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাউন্ডারি কমিশনের কার্যক্রমে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসচর্চার দিকগুলো বর্তমান সমাজের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই তার এই বিশাল সাহিত্যকর্ম ও গবেষণার ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর তারা জোর দেন।

খুলনা কবি-সাহিত্যিক ফোরামের সদস্য সচিব আজাদুল হক আজাদ এবং কবি সৈয়দ আলী হাকিমের যৌথ সঞ্চালনায় সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়। আলোচনা সভা সমাপ্তির পর মরহুম এ এফ এম আব্দুল জলীলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় উপস্থিত সকলে তার অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন এবং তার আদর্শ অনুসরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।