৩ নভেম্বর, ২০২৬

জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার-পানি মজুত করতে বলছে বিভিন্ন দেশ, কীসের আশঙ্কা

জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার-পানি মজুত করতে বলছে বিভিন্ন দেশ, কীসের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার নাগরিকদের ঘরে অন্তত তিন দিন চলার মতো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ, টর্চলাইট ও রেডিও মজুত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। নরওয়ে ও সুইডেনে নাগরিকদের এক সপ্তাহ এবং জার্মানিতে ১০ দিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি, সাইবার হামলা এবং বিদ্যুৎ বা যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এমন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই নির্দেশনাগুলোর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো আসন্ন যুদ্ধ বা বড় ধরনের বৈশ্বিক বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা নেই।

ব্রিটিশ সরকার নাগরিকদের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রচারাভিযান শুরু করেছে। এই নির্দেশনার পর দেশটির বিভিন্ন বাজারে টিনজাত খাবার, বোতলজাত পানি, পাওয়ার ব্যাংক এবং ব্যাটারিচালিত রেডিওর বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে যে বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং এর ফলে কোনো ধরনের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। মূলত কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে পরিবারগুলো যেন কিছুদিন নিজেদের মতো চলতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই এই প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান ও বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে জরুরি প্রস্তুতির এই নির্দেশনায় ভিন্নতা রয়েছে। জাপানের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, অন্যদিকে ইউরোপের দেশগুলোতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সাইবার সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশন সদস্যদেশগুলোর নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর মতো সক্ষমতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য ৯০ দিন পর্যন্ত স্বনির্ভর থাকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আধুনিক নাগরিক জীবনে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, পানি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত হওয়ায় একটি খাতে বিঘ্ন ঘটলে পুরো ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। সম্ভাব্য এসব সংকট মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা না করে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুছিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়া এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বরগুলো হাতের কাছে রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার মতো মানসিক ও বাস্তবিক প্রস্তুতি বজায় রাখা।