১ নভেম্বর, ২০২৬

খারাপ ফলাফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

খারাপ ফলাফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক এবং পাসের হার শূন্য, সেগুলোকে কঠোর জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এই ফলাফলের পরিসংখ্যান প্রকাশের পর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পরিস্থিতিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিষ্ক্রিয়তা দূর করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশের মোট ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি, অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার সম্পূর্ণ শূন্য। অথচ এর আগের বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি, যা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে বিগত বছরের তুলনায় এবার ফলাফল বিপর্যয় ঘটা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক লাফে একানব্বইটি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ১৩৯টিতে এসে ঠেকেছে। সামগ্রিক এই পরিসংখ্যান দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও তদারকির ওপর এক বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

এই শোচনীয় ফলাফলের নেপথ্যের কারণ উদঘাটন এবং দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা প্রশাসন। শিক্ষামন্ত্রী তাঁর ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই ধরনের শূন্য পাস করা এবং আশঙ্কাজনকভাবে খারাপ ফলাফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষার মানের এই অবনতি রোধ করতে হলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়মিত নজরদারি এবং শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। যেসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি একাডেমিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, শিক্ষা প্রশাসনের এই তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পাঠদান প্রক্রিয়া আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে বাধ্য হবে।