জাতীয় ডেস্ক: দীর্ঘ এক মাস নয় দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে সফলভাবে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ। গত মঙ্গলবার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর থেকেই তাকে স্বাগত জানাতে দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা ভিড় জমান। বিদেশ সফর সম্পন্ন করে তিনি নিজ জেলা হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং সেখানে বিভিন্ন দলীয় ও সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। তার এই দীর্ঘ সফর এবং দেশে ফিরে আসার খবরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে বেশ উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
আমেরিকা প্রবাসকালে তিনি দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। প্রবাসীদের উদ্যোগে আয়োজিত একাধিক মতবিনিময় সভায় তিনি দেশের চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়া, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হবিগঞ্জবাসী, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বিএনপি এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হয়। এছাড়া দেশটিতে অবস্থানরত বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানান।
প্রবাসীদের দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে হুইপ জি কে গউছ তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও রেমিট্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও মেধার যথাযথ প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রবাসীদের দেশে অধিক পরিমাণে বিনিয়োগ করার উদাত্ত আহ্বান জানান। প্রবাসীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই দেশে নির্বিঘ্নে ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে পারেন, সেটির জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি জানান যে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু লোক এখনও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে সরকার এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অচিরেই বিমানবন্দরে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে এবং সাধারণ যাত্রীরা এর সুফল ভোগ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে নিজ জেলায় ফিরে আসার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে এবং তার এই সফর দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।