২৮ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজারে সৈকতে ১২ ‘বর্জ্যমানব’, কী বার্তা দিলেন তাঁরা

কক্সবাজারে সৈকতে ১২ ‘বর্জ্যমানব’, কী বার্তা দিলেন তাঁরা

জাতীয় ডেস্ক: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সাগরদূষণ রোধে এবং সাধারণ পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি সকালে সৈকতের ব্যস্ততম সুগন্ধা পয়েন্টে উপস্থিত হন একদল তরুণ, যাঁদের সম্পূর্ণ শরীর বিভিন্ন পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ও নানা বর্জ্য দিয়ে ঢাকা ছিল। দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছিল যেন ময়লা-আবর্জনা দিয়ে তৈরি কোনো অবয়ব দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা খুব সহজেই সৈকতে বেড়াতে আসা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সংস্থাটির উদ্যোগে অংশ নেওয়া এসব তরুণ নিজেদের ‘বর্জ্যমানব’ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং পর্যটকদের কাছে প্লাস্টিক ও একবার ব্যবহার্য বর্জ্য ফেলার ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন। তাঁরা মুখে কোনো উচ্চবাচ্য না করে মৌন প্রদর্শনী ও প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মূলত প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক সৈকতে এসে যত্রতত্র প্লাস্টিক ও চিপসের প্যাকেট ফেলে পরিবেশের যে মারাত্মক ক্ষতি করছেন, সেটির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দৃশ্যমান বার্তা দিতেই এই অভিনব পারফরম্যান্সের আয়োজন করা হয়।

সৈকতে উপস্থিত উৎসুক পর্যটকরা এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা দেখে থমকে দাঁড়ান এবং বর্জ্যমানবের কাছ থেকে পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন বার্তা গ্রহণ করেন। অনেকে এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান যে, সাধারণ লিফলেট বিতরণের চেয়ে এই ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ মানুষের মনে অনেক বেশি দাগ কাটে। পর্যটকরা নিজেরাও সৈকত পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে সচেতন হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলার শপথ নেন।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকতকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের প্রতীকী সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে অন্তত কিছু মানুষের আচরণে পরিবর্তন আসবে এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজার আরও বেশি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হয়ে উঠবে।