২৭ অক্টোবর, ২০২৬

জাল সনদে চাকরি: প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

জাল সনদে চাকরি: প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

অপরাধ ডেস্ক: ৩৮তম বিসিএসে জালিয়াতির মাধ্যমে সনদ দাখিল করে সরকারি চাকরি পাওয়ার অভিযোগে প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের দুই কর্মকর্তার ওপর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে করা পৃথক দুটি আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

যাদের বিরুদ্ধে এই বিদেশগমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তারা হলেন প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত সঞ্জয় দাস এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত আবু সালেহ মো. মুসা। অভিযুক্ত সঞ্জয় দাসের বাড়ি রাজধানী ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় এবং আবু সালেহ মো. মুসার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলায়। দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন এই দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে পৃথক আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া সনদ তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই জাল সনদগুলোকে আসল ও বৈধ দলিল হিসেবে দেখিয়ে নিজেদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেন তারা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) বিভ্রান্ত করে তারা ৩৮তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হন এবং চাকরিতে যোগদানের পর নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত এই দুই কর্মকর্তা চাকরি হারাতে পারেন এমন আশঙ্কায় গোপনে দেশত্যাগ করে অন্য কোথাও পালিয়ে যাওয়ার ফন্দি আঁটছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই তারা দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই তাদের বিদেশ গমন তাৎক্ষণিকভাবে রহিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আনীত জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগের মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।