অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও প্রসারিত হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক দশকের ব্যবধানে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে, একই সময়ে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। উভয় দেশের এই অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরিধি বাড়াতে চলতি বছর উভয় দেশের মধ্যে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে জাপানে প্রধানত ওভেন ও নিট পোশাক এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়, যার তালিকায় রয়েছে প্রায় চারশ ধরনের বিভিন্ন পণ্য। এর বাইরে হিমায়িত খাদ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত সামগ্রী এবং প্রকৌশল পণ্যও নিয়মিত দেশটিতে পাঠানো হয়। পক্ষান্তরে, জাপান থেকে বাংলাদেশে প্রধানত ভারী শিল্পজাত সামগ্রী, লোহা, ইস্পাত, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও এর যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়। বিশেষ করে দেশটির লোহা ও ইস্পাত বাংলাদেশের আমদানির একটি বড় অংশ দখল করে আছে, যা দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি চার দিনের একটি রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং দেশটির বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও বড় অবকাঠামো প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফর দুই দেশের বাণিজ্যিক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রকে আরও প্রশস্ত করতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জাপানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে প্রায় এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় সাড়ে ছয়শ কোটি ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। অটোমোবাইল, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং বিদ্যুৎ খাতের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে এই বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশনের জরিপে বাংলাদেশ টানা তিন বছর ধরে ব্যবসা প্রসারের জন্য সেরা সম্ভাবনাময় দেশের তালিকায় রয়েছে। জাপান–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া মনে করেন, এই বিনিয়োগপ্রবাহ পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে দ্রুত চুক্তিসমূহের অনুমোদন এবং দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করতে হবে।