২৩ অক্টোবর, ২০২৬

সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন জাইনীন

সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন জাইনীন

বিনোদন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মুকুটে যুক্ত হলো নতুন এক গৌরবময় অধ্যায়। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত এবং খনা টকিজ প্রযোজিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ’দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এ অসামান্য অভিনয় প্রদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন দেশীয় অভিনেত্রী জাইনীন করিম চৌধুরী। কানাডায় অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া টরন্টো (আইএফএফএসএ) আসরে আন্তর্জাতিক ফিচার ক্যাটাগরিতে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি। উত্তর আমেরিকার দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বৃহৎ এই আসরটি সাউথ এশিয়ান স্ক্রিন কাউন্সিল অব কানাডার ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে থাকে।

সিনেমার মূল কাহিনী গড়ে উঠেছে ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী বিউটি পারলারকে ঘিরে, যেখানে এক হবু কনে তার পরিবারের চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন সাজসজ্জা ও আচার-অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করতে শুরু করে। জাইনীন করিম চৌধুরী এই চলচ্চিত্রে এমন এক নারীর চরিত্রে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অভিনয় করেছেন, যার ব্যক্তিজীবনের প্রত্যাশা এবং শরীরের ওপর নিজের অধিকারের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটে। উৎসবের বিচারকমণ্ডলী তাঁর অভিনয়ের গভীরতা, নির্ভীক উপস্থাপন এবং চরিত্রের ভেতরকার তীব্রতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, নারীর ওপর সামাজিক দমনপীড়ন ও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বিষয়টিকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে জাহীনের সহজাত অভিনয়শৈলী সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

চলচ্চিত্রটিতে জাইনীন ছাড়াও দেশের আরও একদল পরিচিত ও প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পী গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করেছেন। এই তারকা বহুল তালিকায় রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ্ বিনতে কামাল, আজমেরী হক বাঁধন, শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম ও মোহাম্মদ বারীর মতো শিল্পীরা নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। এর আগে টরন্টো উৎসবের এই সাফল্যের পাশাপাশি চলচ্চিত্রটি ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসব এবং নামী টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও সফলভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত হওয়ার এই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের স্বাধীন ধারার সিনেমার মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, শিল্পমানসমৃদ্ধ এই চলচ্চিত্রটির নির্মাণকাজে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক একাধিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কাউন্সিল অব ইউরোপের ইউরিমাজ, ফ্রান্সের সিএনসি, পর্তুগালের আইসিএ, ইতালির ফোন্দাৎসিওনে প্রাদা ফিল্ম ফান্ড, নরওয়ের সোরফন্ড এবং জার্মানির ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ড। বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য এসব ফিল্ম ফান্ডের সহযোগিতা এবং কলাকুশলীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ছবিটি আন্তর্জাতিক দর্শকদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র সমালোচকদেরও মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।