রাজনীতি ডেস্ক: দেশের কওমি ধারার সাতটি সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দল সম্পূর্ণ নতুন কোনো দল গঠন না করে একটি অভিন্ন ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সম্প্রতি রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মাখযানুল উলুম মাদরাসায় আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকে দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ নেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি সুসংহত অবস্থান তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
নতুন এই ঐক্য প্রক্রিয়ার আওতায় দলগুলো নিজেদের আগের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও সত্তা বজায় রেখেই অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ’সমমনা ইসলামী দল’ নামটি ব্যবহার করবে। মূলত নিজেদের মধ্যে বিভেদ দূর করে বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরালো করতেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরা মনে করছেন, আলাদাভাবে কার্যক্রম পরিচালনা না করে সম্মিলিতভাবে মাঠে নামলে ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় তা বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকের অন্যতম একটি বড় সিদ্ধান্ত ছিল বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। বর্তমানে বিএনপি কিংবা জামায়াতে ইসলামীর মতো প্রধান রাজনৈতিক জোট বা দলের সঙ্গে যেসব দল যুক্ত রয়েছে, তারাও এই নতুন ঐক্য প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। তবে অন্য কোনো জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত দলগুলোর ক্ষেত্রে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। এর ফলে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ইসলামপন্থীদের মধ্যে একটি সমন্বিত বোঝাপড়া তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আসন্ন কর্মপন্থা ঠিক করতে এবং ঐক্য প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী দফার বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ওই বৈঠকে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী ঐক্যজোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় এই উলামায়ে কেরাম ও রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ইসলামী রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।