২১ অক্টোবর, ২০২৬

রাস্তার পাশের পিঠা-পুরির দোকানেও লাগবে নিবন্ধন

রাস্তার পাশের পিঠা-পুরির দোকানেও লাগবে নিবন্ধন

জাতীয় ডেস্ক: দেশের খাদ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ভোক্তাদের জন্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ আহার নিশ্চিত করতে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এখন থেকে দেশের সব ধরনের খাবারের দোকান, ফুটপাতের পিঠাপুরি কিংবা পেঁয়াজুর স্টল থেকে শুরু করে বড় আকারের রেস্তোরাঁ, বেকারি এবং মিষ্টির প্রতিষ্ঠানকেও নিয়মের আওতায় আসতে হবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ’নিরাপদ খাদ্য প্রবিধানমালা’ অনুযায়ী এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। এর ফলে পুরো খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, নতুন এই বিধানের আওতায় শুধু সাধারণ দোকানই নয়, বরং কোল্ড স্টোরেজ, ক্যাটারিং সেবা, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারক এবং প্যাকেটজাত খাবারের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও নিবন্ধনের বাইরে থাকবে না। নিয়মানুযায়ী, ১৬টি সুনির্দিষ্ট শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রথমবার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স বা এই ধরনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং কেউ এই নিয়ম অমান্য করলে তা আইনগত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

নতুন নিয়মের একটি বড় দিক হলো প্যাকেটজাত যেকোনো খাবারের গায়ে বাধ্যতামূলকভাবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিবন্ধন নম্বর যুক্ত করতে হবে। এর ফলে কোনো নিম্নমানের বা ভেজাল পণ্য বাজারে এলে খুব সহজেই এর মূল উৎপাদক বা বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সাধারণ ক্রেতারাও এই নম্বর দেখে পণ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন এবং প্রয়োজনে কোনো অসঙ্গতি দেখলে কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে কেবল নম্বর থাকলেই খাদ্যের শতভাগ মান নিশ্চিত হয় না, এর পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য যেমন শিশুদের জন্য তৈরি ফর্মুলা দুধ, বিভিন্ন স্বাস্থ্যসহায়ক খাদ্য এবং জিনগতভাবে পরিবর্তিত পণ্যের ক্ষেত্রে আরও কঠোর অনুমোদন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে। ব্যবসার পরিধি ও আয়তনের ওপর ভিত্তি করে লাইসেন্সের ফি নির্ধারিত হয়েছে এবং এসব লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর, যা পরবর্তীতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নবায়ন করতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় জেলা কার্যালয় থেকে আবেদন করা গেলেও খুব শীঘ্রই পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল বা অনলাইনভিত্তিক করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।