২১ অক্টোবর, ২০২৬

যাত্রাবিরতির দাবিতে নীলফামারীতে ট্রেন আটকে অবরোধ, ৪ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

যাত্রাবিরতির দাবিতে নীলফামারীতে ট্রেন আটকে অবরোধ, ৪ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

জাতীয় ডেস্ক: নীলফামারীর দারোয়ানী রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার জোরালো দাবিতে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সম্প্রতি সকালের দিকে দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন বয়সী সহস্রাধিক মানুষ একত্রিত হয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন। দীর্ঘ দিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে নিয়মিত ট্রেন না থামার কারণে সাধারণ যাত্রী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এই আকস্মিক অবরোধের ফলে রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে।

অবরোধে অংশ নেওয়া স্থানীয় মানুষেরা জানান, চিলাহাটি ও সৈয়দপুর রেলপথের মাঝখানে অবস্থিত দারোয়ানী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। এই এলাকার কাছাকাছি উত্তরা ইপিজেডসহ বেশ কিছু শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় স্টেশনটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু নিয়মিত যাত্রাবিরতির অভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে যেমন বাড়তি সময় ও কষ্ট হয়, তেমনি ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। মূলত এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই সদর উপজেলার সোনারায়, চড়াইখোলা ও কুন্দপুকুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা রাজপথে নেমে আসেন।

হঠাৎ এই রেলপথ অবরোধের ফলে রেলযোগাযোগ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়ে এবং বেশ কিছু ট্রেন মাঝপথে আটকে যায়। চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী রকেট মেইল ট্রেনটি সরাসরি দারোয়ানী স্টেশন এলাকায় এসে আটকা পড়ে। পাশাপাশি চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্তনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারী স্টেশনে আটকে থাকে। এর ফলে রূপসা এক্সপ্রেসের যাত্রীসহ সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী ও বিরামপুর স্টেশনের অসংখ্য যাত্রী দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান নীলফামারী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নীলফামারী স্টেশন মাস্টার। প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে দারোয়ানী স্টেশনে ট্রেন থামানোর ব্যবস্থা করার জোরালো আশ্বাস দেন। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এমন ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘ চার ঘণ্টা পর রেলপথ থেকে অবরোধ তুলে নেন। প্রশাসনের এই মধ্যস্থতার পর রেলপথে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং আটকে থাকা ট্রেনগুলো নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।