২১ অক্টোবর, ২০২৬

আগাম শীতকালীন সবজি, উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাজারে

আগাম শীতকালীন সবজি, উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাজারে

অর্থনীতি ডেস্ক: রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রাবৃত শীতের আমেজ ছাড়াই উঠতে শুরু করেছে মৌসুমি সবজি। কারওয়ান বাজারসহ শহরের প্রধান কাঁচাবাজারগুলোতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা ও টমেটোর মতো শীতকালীন সবজির সরবরাহ দেখা যাচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় এসব আগাম সবজির দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ বাড়তি দামের কারণে পছন্দের সবজি চাহিদামতো কিনতে পারছেন না। ফলে বাজারে স্বস্তি ফেরার পরিবর্তে বাড়তি খরচের চাপ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ব্যবসায়ীদের মতে, পুরোদমে শীতের সবজি বাজারে আসা শুরু হলে এবং সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে আসবে।

বাজারে আসা এসব আগাম সবজির আকার এখনো বেশ ছোট এবং অনেক ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি পরিপক্বও হয়নি। বিশেষ করে টমেটোতে সাদাটে ও সবুজ আভা দেখা যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে কৃষকরা বাড়তি চাহিদার কারণে কাঁচা অবস্থাতেই জমি থেকে ফসল তুলে ফেলছেন। সম্প্রতি কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও যশোর থেকে ট্রাকভর্তি করে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলা নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। রাতের শেষভাগে ও ভোরের আলো ফোটার আগেই এসব পণ্য নামানো এবং বিক্রির ব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে আড়তগুলো। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শিম ৯৫ থেকে ১২০ টাকা এবং দেশি টমেটো ৭০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি মুলা ২০ থেকে ৩০ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

খুচরা বাজারে এসে এসব শীতকালীন সবজির দাম আরও বহুগুণ বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি শিম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ফুলকপি ও বাঁধাকপির প্রতিটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং মুলা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। শুধু শীতকালীন সবজি নয়, বরং অন্যান্য সবজির বাজারও বেশ চড়া রয়েছে। বেগুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এলাকাভেদে খুচরা দামের তারতম্য ঘটে এবং গুলশান বা ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকার সঙ্গে মহাখালী বা শ্যামলীর বাজারের দামের কিছুটা পার্থক্য থাকে।

ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে শীতের সবজি এখনো পুরোপুরি বাজারজাত করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বর্তমানে কেবল দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল থেকেই আগাম উৎপাদিত কিছু সবজি আসায় বাজারে এর ঘাটতি রয়েছে। কারওয়ান বাজারের আড়তদার মিজানুর রহমান সুমন জানান, ভরা মৌসুমে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে অনেক সময় অবিক্রীত মুলা ফেলে দিতে হয় বা কম দামে সবজি বিক্রি করতে হয়। তবে বর্তমানের এই চড়া দাম মূলত সরবরাহ সংকটের কারণে তৈরি হয়েছে। এছাড়া পাইকারি বাজারে রাতের বিভিন্ন সময়ে দামের বড় ধরনের তারতম্য ঘটে। অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, রাতের প্রথম প্রহরের তুলনায় ভোরের দিকে আড়তে সবজির দাম কিছুটা কমে আসে, যা পরে খুচরা বাজারে এসে আবার বেড়ে যায়।