অর্থনীতি ডেস্ক: রাজধানীর কাছাকাছি কেরানীগঞ্জ উপজেলায় একটি নতুন গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫ মেগাওয়াটপিক ক্ষমতার এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে সরকারি পরিকল্পনা কমিশনে নথি পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
প্রকল্পের প্রাথমিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একই স্থানে জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব। সেখানে ৩০ মেগাওয়াটপিক বা তার চেয়ে বেশি ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি বিশেষ গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এর সার্বিক নকশা, প্রাক্কলিত ব্যয় এবং জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগের সক্ষমতা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার আগে অভিজ্ঞ কোনো নিরপেক্ষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চালানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নে মোট খরচের সিংহভাগ বৈদেশিক বা অন্যান্য উৎস থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাকি অর্থের একটি অংশ সরকারি তহবিল এবং আরেকটি অংশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। কেরানীগঞ্জে বোর্ডের মালিকানাধীন অব্যবহৃত জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগের কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রাথমিক পরিদর্শনে প্রায় ৫৫ একর জমি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা প্রকল্পের কার্যপরিধি বাড়াতে সাহায্য করবে।
কারিগরি মূল্যায়নে প্রথাগত নকশার পরিবর্তে পূর্ব-পশ্চিমমুখী কনফিগারেশন ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সীমিত জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে। এই বিশেষ পদ্ধতিতে কম জমিতে তুলনামূলক বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সুচারুভাবে সরবরাহের জন্য স্থানীয় উপকেন্দ্রের সক্ষমতা ও গ্রিড ইমপ্যাক্ট স্টাডি করার সুপারিশ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে, প্রস্তাবিত নানা সংশোধনী ও পুঙ্খানুপুঙ্খ সমীক্ষা সম্পন্ন করার মাধ্যমেই কেরানীগঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ প্রকল্পটি চূড়ান্ত বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে।