২১ অক্টোবর, ২০২৬

নিরাপদে সবাই নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

নিরাপদে সবাই নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

জাতীয় ডেস্ক: অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের মাটিতে ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিক যাতে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেই অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল। সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন উপলক্ষে নাটোর জেলার বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের কোথাও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি মানুষ যেন নির্বিঘ্নে তাদের আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারে, প্রশাসন সেই বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে।

পূজা উদ্‌যাপনের এই ধারাবাহিকতায় প্রতিমন্ত্রী নাটোরের লালপুর এবং বাগাতিপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এর অংশ হিসেবে তিনি লালপুরের ঐতিহ্যবাহী বুধপাড়া মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সেখানে একটি নতুন অফিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি মন্দির চত্বরের সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং এর ঐতিহাসিক পটভূমি ও ধর্মীয় গুরুত্ব সম্পর্কে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন খোঁজখবর নেন। প্রতিমন্ত্রীর এই আকস্মিক ও ব্যাপক মণ্ডপ পরিদর্শনের ফলে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি হয়।

বাগাতিপাড়া ও লালপুর উপজেলার দয়ারামপুর, গালিমপুর, জামনগর, ধুপইল, ওয়ালালিয়া, মধুবাড়ি, গোপালপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে ঘুরে ঘুরে প্রতিমন্ত্রী সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। এ সময় তিনি পারস্পরিক সহাবস্থান ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বজায় রেখে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল সৌন্দর্যই হচ্ছে এর ধর্মীয় সম্প্রীতি, যেখানে সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতির ধারা একইভাবে বজায় থাকবে।

প্রতিমন্ত্রীর এই মণ্ডপ পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সফরসঙ্গী হিসেবে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু এবং পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলামসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই সক্রিয় উপস্থিতি স্থানীয় মণ্ডপগুলোতে পূজা উদ্‌যাপনকে আরও নিরাপদ ও উৎসবমুখর করে তোলে বলে স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেন।