২২ জুলাই, ২০২৩

চার দশক ধরে একাই দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি, সড়ক নির্মাণের দাবি

চাকল বিলের মাঝখানে ৪০ বছর আগে যে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল তা এখন ভেঙ্গে খসে পড়ছে। কয়েক যুগ পেড়িয়ে গেলেও সেতুটি ব্যবহার করতে পারেনি এই এলাকার মানুষ। কারণ বিলের থই থই পানির ভেতর সেতু নির্মাণ হলেও হয়নি মানুষ চলাচলের সড়ক।

সেতুটি ব্যবহারের জন্য সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে গতকাল শনিবার বেলা ১১ টার দিকে ওই সেতুপাড়ে মানববন্ধন করেছেন রওশনপুর, ঝাউপাড়া, মকিমপুরসহ ৫ গ্রামের মানুষ। উদ্দেশ্য সড়ক যোগাযোগ তৈরি করে সেতুটি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্ভোগ লাঘব করা।

গুরুদাসপুর উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া জানান, ব্যবহার না করায় সেতুটি এখন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এটির ঢালাই এবং ইট খসে পড়ছে। তাই সড়ক যোগাযোগ গড়ে তুললে সেতুটি পূনরায় নির্মাণ করতে হতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামীণ উন্নয়ন অবকাঠামোর আওতায় আষিড় দশকে মানুষ চলাচলের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল গুরুদাসপুরের চাপিলা ও ধারাবারিষা ইউপিনয়নের শেষ সীমান্ত চাকলবিলে। উদ্দেশ্য ছিল ধারবারিষা ইউনিয়নের জোলাগাড়ি তথা উপজেলা শহরের সাথে চাপিলা ইউনিয়নের মকিমপুরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা।

এতে উপজেলার সাথে মকিমপুর তথা চাপিলা ইউপির বড় একটা অংশের সহজ যোগাযোগ তৈরি হতো। কিন্তু বাস্তবে এসবের কিছুই হয়নি। সেতুটি তিন যুগ ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে  চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালিন চেয়ারম্যান আবু জাফর মিয়া ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে সেতুটি নির্মাণ করেছিলেন। সেতুটি ব্যবহার করতে সেসময় মকিমপুর উত্তরপাড়া থেকে ঝাড়পাড়া-জোলাগাড়ি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার মাটির সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বিলের উত্তাল ঢেউয়ে বছর ঘুরতেই মাটির সড়কটি বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে আর সড়কটি চলাচলের অপযোগী করা হয়নি। ফলে সেতুটিও ব্যবহার করতে পারেনি এলাকার মানুষ।

মকিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল আক্তার জানান, ধারাবারিষা আর চাপিলা ইউনিয়নকে বিভক্ত করেছে চাকলবিল। এই বিলে প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপন্ন হয়।  মোকিমপুর, তেলটুপি, রওশনপুর, নওপাড়া, ঝাউপাড়া ও সোনাবাজু গ্রামের কৃষকেরা এই বিলে চাষাবাদ করেন।

কিন্তু মকিমপুর জোলাগাড়ি সড়কটি পূণঃনির্মাণ না করায় সেতুটি ব্যবহার করা যায়নি। ফলে এসব এলাকার কৃষকদের পন্য পরিবহনসহ মানুষ চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে। তিন কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে ঘুরতে হচ্ছে ৭ কিলোমিটার পথ। এতে বাড়তি সময়ের পাশাপাশি ব্যায়ও বেশি হচ্ছে।

স্থানীয় যুবলীগ নেতা আজাদ জানান, চাপিলার অন্তত ৫ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জেলা-উপজেলা সদর, থানা, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যোগাযোগ রক্ষা করতে হচ্ছে ৭ কিলোমিটার ঘুরপথে। এতে বাড়ছে দুর্ভোগ। চাকলবিলের সেতুটি পূণর্নির্মাণ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর দাবি তার।

চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে  জানান চাকলবিলের বুকচিরে বয়ে যাওয়া সড়ক এবং পুড়নো সেতুটি পূণঃনির্মাণ করা হবে। এতে পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ তাদের চাষাবাদ এবং উৎপাদিত ফসল পরিবহনের ক্ষেত্রে উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন।

মানববন্ধনে নেতৃত্বস্থানীয় মকিমপুর গ্রামের সমাজসেবক আলহাজ মোঃ আমিরুল ইসলাম বাবু, মাছ ব্যবসায়ী জাকির হোসেন, আবু ফয়সাল সিদ্দিক, সজল ইসলাম, রবিন, জাকারিয়া হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।