নোয়াখালীর হাতিয়ায় চার বছরের এক কোমলমতি শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার গুরুতর অভিযোগে সোহরাব উদ্দিন (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনাটি পুলিশ পর্যন্ত না গড়িয়ে সামাজিকভাবে ধামাচাপা দিতে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হাতিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব খোন্দকার সোহেলের বিরুদ্ধে। স্পর্শকাতর এই ঘটনা ও স্থানীয় নেতার অপচেষ্টার খবরে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেফতারকৃত তরুণ সোহরাবকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে হাতিয়া পৌরসভা এলাকায়।
গ্রেফতার হওয়া সোহরাব উদ্দিন হাতিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাশ এলাকার ফাহাদ উদ্দিনের ছেলে।
প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের দিকে সোহরাব বিভিন্ন প্রলোভন ও ফুসলিয়ে চার বছরের শিশুটিকে নিজের বসতঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির শরীরে অসৎ উদ্দেশ্যে হাত দেন এবং একপর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। শিশুটি ভয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে।
৩ হাজার টাকায় রফাদফার চেষ্টা ও ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য
ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপ নিতে গেলে তা বাধার মুখে পড়ে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। শিশুটির বাবা ক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঘটনাটি সামাজিক বৈঠকের নামে ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, হাতিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব খোন্দকার সোহেল সরাসরি ভুক্তভোগী শিশুটির দাদার পকেটে জোরপূর্বক তিন হাজার টাকা গুঁজে দেন এবং এ নিয়ে আর মুখ না খুলতে কড়া হুশিয়ারি ও চাপ প্রদান করেন। পরে শিশুটির বাবা বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই টাকা ফেরত দেন এবং আইনের আশ্রয় নেন।
অভিযোগ অস্বীকার ও প্রশাসনের বক্তব্য
তবে ধামাচাপা দেওয়ার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতা খোন্দকার সোহেল। তার দাবি, কথিত ওই সামাজিক বৈঠকের সময়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ব্যস্ত ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতেই এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, "শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে আসামির নিজ বাড়ির সামনে থেকে সোহরাবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।" তবে স্থানীয়ভাবে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া কিংবা কোনো আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি পুলিশে কোনো লিখিত অভিযোগ হিসেবে আসেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।