২০ অক্টোবর, ২০২৬

আনোয়ারের চাকরির আনন্দ শেষ হলে সড়কে

আনোয়ারের চাকরির আনন্দ শেষ হলে সড়কে

আনোয়ার হোসেন (৩০) নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন কয়েকদিন আগে। মনে আনন্দে নিয়ে পরিবারের কাছে ফিরছিলেন। মহুর্তেই তার সেই আনন্দ চিরদিনের জন্য মুছে গেল। নাটোরের বড়াইগ্রামের মহাসড়কে থেমে গেল আনোয়ারের জীবন।

আজ মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের সরকার পাড়া এলাকায় এসে তাদের বহনকারী বাসটি দুর্ঘটনাকবলিত হয়। দুর্ঘটনায় নারী শিশুসহ যে ১৪ জন নিহত হয়েছেন তাদেরই একজন আনোয়ার। তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

নিহত আনোয়ার হোসেন রাজশাহীর বাগমারার শ্রীপুর ইউনিয়নের চাঁইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সাদা ব্যাগে মুড়িয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় রাখা আছে তার লাশটি। লাশ নিতে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় এসেছেন তার চাচা আকতার হোসেন। 

থানায় বসে তিনি বলেন, সকালে খবর পাওয়ার পর পরই তিনি ভাতিজার লাশ নিতে বড়াইগ্রামে এসেছেন। এখনো লাশটি বুঝে পাননি। লাশ নিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে হচ্ছে।

তার ভাষ্যমতে, গ্রামে স্বজনেরা লাশের অপেক্ষায় আছেন। বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে আনোয়ারকে দাফন করা হবে। সে জন্য কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। কাটা হচ্ছে বাঁশ।

মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অদূরে সরকার পাড়ায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালু বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি ল সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৪জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন।

বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দের এসআই মো. শামীম হোসেন বলেন, আরপি পরিবহনের ওই বাসটি বরগুনা থেকে যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল। ট্রাকটি পঞ্চগড় থেকে বালু লোড করে ঝিনাইদহ যাচ্ছিল। পথে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রামের বনপাড়া সরকারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে ১০ জনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরো পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। নিহতদের মধ্যে এক শিশু রয়েছে। তবে ওই শিশুর পরিচয় পাওয়া যায়নি।

তারমতে, ট্রাকটি মহাসড়কের বামপাশের লেন ধরেই যাচ্ছিল। কিন্তু বেপরোয়া গতির ওই বাসটি ওভারটেকিং করতে গিয়ে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পরিবহনের চালকই মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশু থাকলেও একাধিক নারী ও বৃদ্ধ রয়েছেন।

নিহত আনোয়ারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।আজ সকালে চাঁইপাড়া গ্রামে আনোয়ারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আনোয়ারের স্ত্রী ফাতেমা বিবি দুই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ডুকরে কাঁদছেন। মাঝে মাঝে মূর্ছা যাচ্ছেন। ছেলের স্মৃতি হাতরে কাঁদছেন আনোয়ারের মাও। আশপাশের লোকজন ভিড় জমিয়েছেন বাড়ির উঠানে।প্রতিবেশীরা এসে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

গ্রামে চলছে দাফনের প্রস্তুতি
আনোয়ারের ভাতিজা মিজানুর রহমান জানান, অনেক আগে থেকেই আনোয়ার ঢাকায় থাকতেন। কিছুদিন আগে একটি প্রকল্পে নতুন চাকরি পেয়েছিলেন। নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়ে বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়ায় এলাকায় বাস থেকে নেমে বাড়ি পৌঁছানোর কথা ছিল। এসব কথা মোবাইল ফোনে পরিবারের লোকজনকে জানিয়েছিলেন তার চাচা আনোয়ার।

আনোয়ারের চাচা আকতার হোসেন বলেন, ঝাড় থেকে বাঁশ কেটে পরিস্কার করা হচ্ছে। কাফনও কেনা হয়েছে। বাড়ির পাশের কবরস্থানে কবর খোঁড়া হচ্ছে। তিনি লাশ নিয়ে ফিরলেই সেখানেই দাফন করা হবে ভাতিজা আনোয়ারকে।

বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় আনোয়ারের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারকে জানানো হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য থানা–পুলিশ বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।#মো.রাশিদুল ইসলাম