২০ অক্টোবর, ২০২৬

হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন রুবিনা, জানেন না স্বামী-সন্তান মারা গেছেন

হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন রুবিনা, জানেন না স্বামী-সন্তান মারা গেছেন

পূজার ছুটি পেয়েছেন। ছুটি কাটাতে বোনের বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন রুবিনা আক্তার (৩৬)। সঙ্গে ছিলেন স্বামী ও দুই সন্তান। আরপি পরিবহনের যে বাসটিতে তারা উঠেছিলেন সেটি গন্তব্যে পৌঁছার আগেই দুর্ঘটনার শিকার হয়। বালু বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তার স্বামী ও মেয়ে মারা যান।

ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় ছেলে লাবিবকে (১০) নিয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন রুবিনা আক্তার। আজ মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের সরকার পাড়া এলাকায় এসে তাদের বহনকারী বাসটি দুর্ঘটনাকবলিত হয়। রুবিনা আক্তারের স্বামী-সন্তানসহ আরো ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

রুবিনা আক্তার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালি শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। স্বামী শহিদুল ইসলাম ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার কর্মকর্তা (ক্রেডিট ম্যানেজার) ছিলেন। দুর্ঘটনায় শহিদুল (৪০) ও তাঁদের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮) মারা গেছেন। তাছফিয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ছেলে লাবিব পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।

সড়কে থামলো ছুটির যাত্রা
পূজার ছুটি কাটাতে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে রাজশাহীর পাঠানপাড়া এলাকায় বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন রুবিনা আক্তার। রুবিনার ভগ্নিপতি শহিদুর রহমানও ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা।

তিনি জানান, পূজার ছুটি কাটাতে সন্তানদের নিয়ে পটুয়াখালী থেকে সোমবার রওনা হন রুবিনা। রুবিনার সঙ্গে ছিলেন স্বামী শহীদুল, ছেলে লাবিব ও মেয়ে তাসফিয়া। মঙ্গলবার সকালেই স্বামী সন্তান নিয়ে রাজশাহীতে পৌঁছানোর কথা ছিল রুবিনার। কিন্তু রুবিনা আসতে দেরি করায় তিনি খবর নিচ্ছিলেন। তখনই দুর্ঘটনার খবরটি জানতে পারেন।

শহিদুর রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার শ্যালিকা (রুবিনা) ও ভায়রা (শহিদুল ইসলাম) ওমরাহ করে এসেছেন। তারা দুজনেই ব্যাংকে চাকরি করেন। পূজার ছুটিটা আমাদের বাসায় কাটানোর জন্য বাসে করে আসছিলে। সড়কের দুর্ঘটনায় সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।’

হাসপাতালের বেডে রুবিনা ও তার ছেলে লাবিব
দুর্ঘটনার পরপরই আহত অন্যান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে গুরুতর আহত অবস্থায় রুবিনাকে  বনপাড়া পাটোয়ারী ক্লিনিকে ও লাবিবকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

রুবিনার ভগ্নিপতি শহিদুর বলেন, নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি লাবিবের পাশে আছেন তিনি। আর রুবিনার পাশে আছেন তাঁর স্ত্রী। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় রুবিনাকে এখনো স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর খবর জানাননি তারা।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় রুবিনা আক্তার গুরুতর যখন হয়েছে। হাসপাতালের শয্যায় ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। স্বামী ও সন্তানের কথা বারবার জানতে চাচ্ছেন। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বামী শহীদুল ইসলাম ও মেয়ে তাসফিয়ার মৃত্যুর খবরটি তারা রুবিনাকে দিতে পারছেন না।