১৮ অক্টোবর, ২০২৬

ইসহাক সরকার ও তারেক আদেল হচ্ছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক

ইসহাক সরকার ও তারেক আদেল হচ্ছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছেন মোহাম্মদ ইসহাক সরকার এবং তারেক এ. আদেল। সম্প্রতি এনসিপির বিভিন্ন সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দলটির পুনর্গঠিত কমিটি প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করা এই তরুণ রাজনৈতিক দলটিকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই নতুন পদায়ন করা হচ্ছে।

রাজনীতিতে মোহাম্মদ ইসহাক সরকারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটির আংশিক আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে, তারেক আহমেদ আদেল বর্তমানে এনসিপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব পুনর্গঠিত কমিটি চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের কাছে জমা দিয়েছেন। যেকোনো মুহূর্তে এই নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম বা রাজনৈতিক পর্ষদে মোট ১৬ জন সদস্য থাকছেন। এই পর্ষদে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব হিসেবে যথাক্রমে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন দায়িত্ব পালন করবেন। বাকি ১৪ জন নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে তরুণ ও পরিচিত মুখগুলোকে রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্ষদের ১৪ জনের মধ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত যুগ্ম আহ্বায়ক তালিকায় থাকছেন আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিক মুজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসুদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হোসেন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম। দলের কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য এই পর্ষদের সদস্যদের বিভিন্ন বিশেষায়িত উপকমিটির প্রধানের দায়িত্বও দেওয়া হচ্ছে।

দল সূত্রে আরও জানা যায়, শীর্ষ নেতাদের বাইরেও বিভিন্ন উপকমিটি এবং সেল গঠনের মাধ্যমে পুরো সংগঠনকে সাজানো হচ্ছে। প্রতিটি উপকমিটির অধীনে কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, ২৩ সদস্যের সাংগঠনিক উপকমিটিতে বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকরা থাকবেন। এ ছাড়া দলের কার্যক্রমে ভিন্নমাত্রা যোগ করতে ৩০ থেকে ৩৫টি বিশেষায়িত সেল গঠন করা হচ্ছে, যার দায়িত্বে থাকবেন কেন্দ্রীয় বিভিন্ন বিষয়ক সম্পাদক ও সহসম্পাদকরা।