১৮ অক্টোবর, ২০২৬

শ্রবণপ্রতিবন্ধী তিন শিল্পীর ব্যান্ডটি নিয়ে উন্মাদনা

শ্রবণপ্রতিবন্ধী তিন শিল্পীর ব্যান্ডটি নিয়ে উন্মাদনা

বিনোদন ডেস্ক: মঞ্চে গান বাজছে আর তার সঙ্গে দারুণ ছন্দে নেচে চলেছেন তিন তরুণ। গানের প্রতিটা শব্দের সঙ্গে হাতের ইশারায় নিখুঁতভাবে ভাব প্রকাশ করছেন তারা। তাঁদের এমন অভিনব পরিবেশনা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শকরা। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিগ ওশানের পরিবেশনা এখন বিশ্বজুড়ে এক অনন্য আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ দলটির এই তিন সদস্যই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। কিন্তু শারীরিক এই সীমাবদ্ধতাকে তারা কখনোই নিজেদের উন্নতির পথে বাধা হতে দেননি। বরং গান, নাচ ও ইশারা ভাষার চমৎকার সমন্বয়ে তৈরি করেছেন নিজস্ব এক পরিবেশনাশৈলী।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে কনসার্টের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রথম বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সফর শুরু করেছে এই দলটি। আট শহরের এই সফরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সব টিকিট মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে গেছে। গত ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকেই আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে বিগ ওশান। তবে কেবল প্রতিবন্ধী শিল্পীদের দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করা তাদের মূল লক্ষ্য নয়। নিজেদের মেধা, ভালো গান ও ব্যতিক্রমী পরিবেশনা দিয়েই শ্রোতা ও দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে চান তাঁরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্যারাস্টার এন্টারটেইনমেন্টের উদ্যোগে মূলত এই দলটি গঠিত হয়। বিগ ওশানের তিন সদস্য পি জে, কিম জিসক এবং লি চানইয়ন প্রত্যেকেই এসেছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পটভূমি থেকে। পি জে আগে জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে কাজ করতেন এবং শ্রবণপ্রতিবন্ধকতা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতেন। কিম জিসক ছিলেন প্রতিযোগিতামূলক আলপাইন স্কিয়ার এবং লি চানইয়ন কাজ করতেন একজন শ্রবণবিশেষজ্ঞ হিসেবে। পরবর্তীতে সবাইকে একত্র করে শুরু হয় কঠোর সংগীত ও নাচের প্রশিক্ষণ। এরপর গত বছরের এপ্রিল মাসে গ্লো নামের একটি গান প্রকাশের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সংগীতাঙ্গনে পা রাখেন।

সংগীতের সুর ও তাল নিখুঁতভাবে অনুধাবনের জন্য বিগ ওশানের সদস্যরা বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেন। অনুশীলনের সময়ে তাদের হাতে বিশেষ কম্পন সৃষ্টিকারী স্মার্টওয়াচ থাকে যা তাল ধরতে সাহায্য করে। এছাড়া বিশেষ মেট্রোনোম ও আলোর সংকেত ব্যবহার করেও তারা গানের ছন্দ বুঝে থাকেন। কেবল প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে দিনের পর দিন কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে নাচের ধাপ ও গানের কথা আয়ত্ত করেন শিল্পীরা। মঞ্চে পরিবেশনার সময় তারা অত্যন্ত সতর্ক থাকেন এবং একে অপরের পারস্পরিক সংকেত অনুসরণ করে চমৎকার সমন্বয় বজায় রাখেন।

পরিবেশনায় ইশারা ভাষার অসাধারণ ব্যবহার বিগ ওশানের গানগুলোকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শুধু হাতের ইশারা নয়, গানের ভেতরের গভীর আবেগও তারা ফুটিয়ে তোলেন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। এর ফলে শ্রবণপ্রতিবন্ধী দর্শকরাও খুব সহজেই গানের কথা ও সুরের অনুভূতি উপভোগ করতে পারেন। একইসঙ্গে সাধারণ দর্শকরাও দৃশ্যমান নানা উপস্থাপনার মাধ্যমে গানের অর্থ নতুন এক মাত্রায় উপলব্ধি করার সুযোগ পান। নিজেদের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আত্মবিশ্বাস, ঐক্য এবং এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে বিশ্বজুড়ে শিল্পপ্রেমীদের মন জয় করে চলেছেন এই তরুণেরা।