১৮ অক্টোবর, ২০২৬

প্লাস্টিক দূষণে কমছে প্রজননক্ষমতা, ঝুঁকিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

প্লাস্টিক দূষণে কমছে প্রজননক্ষমতা, ঝুঁকিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

স্বাস্থ্য ডেস্ক: পরিবেশের ক্ষতি ছাড়িয়ে প্লাস্টিক দূষণ এখন মানবদেহের জন্য এক ভয়াবহ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের রক্ত, ফুসফুস ও মস্তিষ্কে প্রবেশ করে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে। এর বিষাক্ত প্রভাবে নারী ও পুরুষ উভয়েরই প্রজননক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে এবং এর ফলে সরাসরি হুমকির মুখে পড়ছে আগামী প্রজন্মের স্বাস্থ্য। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পরিবেশ গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে সম্প্রতি প্লাস্টিক দূষণ ও সামুদ্রিক বর্জ্য নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা বা ইউনিডোর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। অনুষ্ঠানে চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং গণমাধ্যমের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, মানবদেহের রক্ত ও ফুসফুসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে গবেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

আলোচকবৃন্দ উল্লেখ করেন যে প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে থাইরয়েড সমস্যা এবং ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আরও গভীর গবেষণা প্রয়োজন। তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে ক্যাথেটার ও বিভিন্ন সুরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে প্লাস্টিক এখনো অত্যন্ত অপরিহার্য একটি উপাদান। তাই যত্রতত্র সব ধরনের প্লাস্টিক নিষিদ্ধ না করে এর অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প খুঁজে বের করার ওপর জোর দেওয়া হয়। কোন ক্ষেত্রগুলোতে প্লাস্টিক ছাড়া চলা অসম্ভব এবং কোথায় বিকল্প ব্যবহার সম্ভব, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিডোর বিশেষজ্ঞ মাহবুবুল ইসলাম, এস এম আরাফাত ও দেশের বিভিন্ন পরিবেশ দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। শিল্পকারখানায় পরিবেশগত নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তাঁরা। উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ টনি মাইকেল গোমেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ইউনিডোর শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সামুদ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নানা চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।