রাজনীতি ডেস্ক: সম্প্রতি কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে গাড়ি ভাঙচুর ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির ঘটনার পর দলটির ওই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই মহানগরীর সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গত ১৪ অক্টোবর ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে দলটির পক্ষ থেকে এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থেকে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দলীয় গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী কুমিল্লা মহানগরীর বিদ্যমান কমিটি ও ইমারাত সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে আপাতত কেন্দ্র থেকেই এই অঞ্চলের সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকি করা হবে। কেন্দ্রীয় পক্ষ থেকে এই তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে। এছাড়া ১৪ অক্টোবরের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটন করতে দুই সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহানকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই তদন্ত কমিটিকে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দলের আমিরের নিকট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ পরবর্তী করণীয় ও চূড়ান্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। এর আগে কুমিল্লা মহানগর কার্যালয়ে সভা চলাকালে বহিরাগত কিছু যুবকের প্রবেশ, হাঙ্গামা সৃষ্টি এবং বাইরে একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ একটি বিবৃতি দিয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুবকরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চলে যাওয়ার সময় এই ভাঙচুর চালায় এবং এর পেছনের আসল রহস্য তারা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন। পরবর্তীতে দলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমকে জানান যে এটি সম্পূর্ণ তাদের অভ্যন্তরীণ ও সাংগঠনিক বিষয় এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কুমিল্লায় জামায়াত কার্যালয়ের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় অন্য একটি রাজনৈতিক দলও পদক্ষেপ নিয়েছে। আমার বাংলাদেশ পার্টি বা এবি পার্টির কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কেন দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সেই মর্মে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর রাতের ওই ঘটনার পর দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সার্বিক এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।