১৬ অক্টোবর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি প্রতিযোগিতায় প্রথম চুয়েট দল

যুক্তরাষ্ট্রের মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি প্রতিযোগিতায় প্রথম চুয়েট দল

শিক্ষা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আয়োজিত শরৎকালীন মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি প্রতিযোগিতায় বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য চল্লিশটি বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সামগ্রিকভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল। বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে আরেকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শিক্ষার্থীরাও।

এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বালু-সিমেন্ট মিশ্রণের নকশা তৈরি করা, যা অত্যন্ত দ্রুত প্রবাহিত হতে সক্ষম এবং দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকে। একই সঙ্গে মিশ্রণটির উৎপাদন খরচ ও কার্বন নিঃসরণের মাত্রা সর্বনিম্ন রাখার কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল প্রতিযোগিতায়। মূলত প্রবাহ পরীক্ষা, অবক্ষেপণ, বিস্তারিত কারিগরি প্রতিবেদন, আর্থিক ব্যয় এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়ালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সামগ্রিক মূল্যায়ন করা হয়।

সামগ্রিক ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি খরচ সাশ্রয়ের দিক থেকেও অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দলটি। অন্যদিকে, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির দলটি পরিবেশবান্ধব নকশা বিভাগে দ্বিতীয় এবং কংক্রিটের নান্দনিকতা প্রতিযোগিতায় বিচারকদের বিশেষ পছন্দে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের এই দুটি দল আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে মোট চারটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছে যা দেশের প্রকৌশল শিক্ষার মানকে উঁচুতে তুলে ধরেছে।

এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও গবেষকরা। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দলের ফ্যাকাল্টি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালক জি এম সাদিকুল ইসলাম এবং অপর দলের উপদেষ্টা ছিলেন চ্যাপ্টারের সভাপতি মো. তারেক উদ্দিন। এছাড়া প্রতিযোগিতায় দলগুলোর সরাসরি উৎসাহ দিতে আটলান্টার মাটিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইফুল আমিন।