১৬ অক্টোবর, ২০২৬

১১ দলের ৭ দফা দাবি কোটি মানুষের প্রাণের দাবি: কুষ্টিয়ায় মোবারক হোসাইন

১১ দলের ৭ দফা দাবি কোটি মানুষের প্রাণের দাবি: কুষ্টিয়ায় মোবারক হোসাইন

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন সম্প্রতি এক বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, ১১ দলের উত্থাপিত সাত দফা দাবি কেবল নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের একক এজেন্ডা নয়। তার মতে, এই দাবিগুলো দেশের আপামর জনসাধারণের মৌলিক অধিকার এবং এটি এদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাকে জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন এই জামায়াত নেতা। হাজারো শহীরের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন এই দেশে কেবল সংশোধনের নামে লোকদেখানো পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার চান তারা।

আসন্ন একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের মাঠ পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে শুরু হয়ে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত একটি লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এই লংমার্চের সমাপনী সমাবেশটি নির্ধারিত হয়েছে কুষ্টিয়ার উক্ত স্টেডিয়ামে। মোবারক হোসাইন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, স্থানীয় জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সমাপনী সমাবেশটি এক বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেবে এবং এটি সফল করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

আসন্ন এই জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমানের। তিনি সেখানে উপস্থিত থেকে সমবেত জনতার উদ্দেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া জাগবে বলে আয়োজকরা মনে করছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই লংমার্চ এবং সমাপনী সমাবেশটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে এই জামায়াত নেতা আরও বলেন যে, অতীতে গণভোটে দেশের সিংহভাগ মানুষ সংস্কারের পক্ষে নিজেদের রায় প্রদান করেছিল এবং তখনকার রাজনৈতিক নেতৃত্বও এর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আরোহণের পর সরকার তাদের সেই নির্বাচনী অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জনগণের অধিকার আদায়ের এই ৭ দফা দাবি মেনে নিতে সরকার শেষ পর্যন্ত বাধ্য হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। মাঠ পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বহু নেতাকর্মী এবং জামায়াতের শীর্ষ স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।