১৬ অক্টোবর, ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু, ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে পূজা

শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু, ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে পূজা

জাতীয় ডেস্ক: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা দেশজুড়ে শুরু হয়েছে। মহাষষ্ঠীর বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে মণ্ডপগুলোতে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের এই দুর্গোৎসব। ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপ এখন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার সারা দেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪৯৬টি বেশি। তবে রাজধানী ঢাকার চিত্র কিছুটা ভিন্ন; ঢাকা মহানগরীতে রাস্তার ওপর পূজা আয়োজনের অনুমতি না থাকায় গতবারের তুলনায় মণ্ডপের সংখ্যা তিনটি কমে ২৫৮টিতে দাঁড়িয়েছে। স্ব স্ব আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিটি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বছর তিথির বিন্যাসের কারণে দুর্গাপূজা পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছয় দিন ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পঞ্জিকা মতে, আগামী শনিবার মহাসপ্তমী, রবিবার অধিক মহাসপ্তমী, সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং মঙ্গলবার মহানবমী উদযাপিত হবে। এরপর আগামী বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এই বর্ণাঢ্য শারদীয় উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। তিথির এই দীর্ঘতার কারণে ভক্তরা অতিরিক্ত একদিন আনন্দ উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন।

শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যালোকে আগমন করেছেন ঘোটকে বা ঘোড়ায় চড়ে এবং বিদায় নেবেন নৌকায় চড়ে। পুরাণ মতে, অসুর শক্তির বিনাশ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দেবতারা তাদের তেজরশ্মি থেকে মহাশক্তি দেবী দুর্গাকে সৃষ্টি করেছিলেন। প্রতিবছর শরৎকালে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যে বাপের বাড়িতে আসেন দেবী, আর এই আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা দেশেই এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।