১৬ অক্টোবর, ২০২৬

টানা ফ্লাইট বাতিলে আর্থিক চাপে এভিয়েশন খাত

টানা ফ্লাইট বাতিলে আর্থিক চাপে এভিয়েশন খাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঝুঁকি ও হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চলাচলকারী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে সরাসরি এবং ট্রানজিট রুটের বহু ফ্লাইট বন্ধ থাকায় প্রায় ষোলো হাজার প্রবাসী যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনেক প্রবাসী বিকল্প যাত্রার খোঁজে রাজধানীতে এসে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। আকস্মিক এই বিমান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি দেশের এভিয়েশন খাতও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোর আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

সৌদিগামী প্রবাসীদের একটি বড় অংশ অতিরিক্ত টিকিটের দাম ও হোটেল খরচ বহন করতে গিয়ে తీవ్ర আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেক যাত্রীর ভিসার মেয়াদ শেষের পথে থাকায় তারা চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে অনেকের চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা টিকিটের তারিখ পরিবর্তন বা বিকল্প ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট এভিয়েশন অফিসে ভিড় করছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় তাদের হতাশা আরও বেড়ে গেছে। ঋণগ্রস্ত হয়ে অনেকে এই সংকট মোকাবিলা করার চেষ্টা করছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা বেবিচক সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে যাত্রীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে এবং সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করার নির্দেশনা দিয়েছিল। তবে ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, এই নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফ্লাইট বাতিলের সঠিক তথ্য সময়মতো না পাওয়ায় অনেক যাত্রী অযথা বিমানবন্দরে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রবাসীদের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান তীব্র লড়াইয়ের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলের ওপর, যার ফলে এভিয়েশন ব্যবসায় বড় ধরনের মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এদিকে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই কমিটি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত কার্যকর সুপারিশ প্রদান করবে এবং বিমান খাতের চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।