১৬ অক্টোবর, ২০২৬

ডলারের একক আধিপত্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ: বৈদেশিক বাণিজ্যে বাংলাদেশি টাকার নতুন সম্ভাবনা

ডলারের একক আধিপত্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ: বৈদেশিক বাণিজ্যে বাংলাদেশি টাকার নতুন সম্ভাবনা

অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একক আধিপত্য থেকে বেরিয়ে আসার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে ডলারের ঊর্ধ্বমুখী দাম ও অস্থিরতার কারণে বৈদেশিক বাণিজ্যে বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি বেশ জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মার্কিন মুদ্রার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অংশীদার দেশগুলোর নিজস্ব স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন চালু করার চিন্তাভাবনা চলছে। এর ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে চলমান সংকটের প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতিকে অনেকটা সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করেছেন।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের পরিবর্তে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহার করা হলে রূপান্তরজনিত খরচ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। সাধারণত এক মুদ্রা থেকে ডলারে এবং ডলার থেকে অন্য মুদ্রায় রূপান্তর করার সময় ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের মাশুল গুনতে হয়, যা সরাসরি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন শুরু হলে এই বাড়তি বিনিময় ব্যয় আর থাকবে না, যা শেষ পর্যন্ত রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক উভয় পক্ষকেই আর্থিকভাবে লাভবান করবে।

এই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ অনেকাংশেই কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগ মেটানোর জন্য তখন আর এককভাবে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভর করতে হবে না, ফলে জরুরি আমদানির জন্য রিজার্ভ ধরে রাখা সহজতর হবে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক বাণিজ্য আরও গতিশীল ও সহজ হবে এবং প্রতিবেশী বা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।

তবে এই নতুন ধারণাটি বাস্তবে রূপ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং কার্যকর রূপান্তর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, বাণিজ্যিক ঝুঁকি এড়াতে মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও আধুনিক ব্যাংকিং চ্যানেলের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে এই সম্ভাবনাময় উদ্যোগটি বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করছেন অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।