এশার নামাজ শেষে ঘরে ফেরা হলো না ১০ বছরের শিশু মেহরাজ হোসেনের। রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত নোহা গাড়ির নির্মম চাপায় প্রাণ হারিয়েছে শিশুটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের আলিপুর এলাকার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মেহরাজ হোসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জীবতলী ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের মেজবা উদ্দিন ও শারমিন সুলতানা দম্পতির ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
যেভাব দুর্ঘটনাটি ঘটে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেহরাজের মা কচুয়া বাজারের ‘আলহেরা ইসলামি একাডেমি’র সহকারী শিক্ষিকা। মায়ের চাকরির সুবাদে তারা ওই প্রতিষ্ঠানের ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করে আসছিল। বুধবার রাতে স্থানীয় মসজিদে এশার নামাজ আদায় করে বাসায় ফিরছিল মেহরাজ। পথে কচুয়া বাজারের সামনের সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত নোহা মাইক্রোবাস তাকে সজোরে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে নিকটস্থ চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া
ঘটনার খবর পেয়ে চাটখিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ চাটখিল হাসপাতালে পৌঁছে শিশুটির মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ জানান-"যেহেতু দুর্ঘটনাটি রামগঞ্জ থানা এলাকায় ঘটেছে, তাই বিষয়টি বেতার বার্তার মাধ্যমে রামগঞ্জ থানাকে অবিহিত করা হয়েছে। সেখান থেকে ফিরতি বার্তা পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রামগঞ্জ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।"
ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত ও এর চালককে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।