১৫ অক্টোবর, ২০২৬

চাহিদার চারভাগের একভাগ সার পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষক, পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ মোতায়েন

চাহিদার চারভাগের একভাগ সার পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষক, পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ মোতায়েন

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে চাহিদামতো সার না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে সারের জন্য শত শত কৃষকের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার লালোর ইউনিয়নের ডাকমন্ডপ বাজারে সারের সার্ফেস ডিলার ‘মেসার্স সরদার ট্রেডার্স’-এর সামনে এই বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।

বরাদ্দের তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা ও কৃষকদের ক্ষোভ
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি তথ্য মতে উক্ত ডিলারের নামে ৭১ টন (টিএসপি ১৬ টন, ডিএপি ৩৭ টন এবং এমওপি ১৮ টন) বা মোট ১,৪২০ বস্তা সার বরাদ্দ রয়েছে। তবে ডিলার তাদের কাছে মাত্র ৩০০ বস্তা সার পৌঁছানোর কথা জানান। সার মজুত থাকার পরও তা না দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন সন্দেহে ভোরে লাইন ধরা শত শত কৃষক বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

কৃষকরা জানান, মাঠে ফসলের রাসায়নিক সার প্রয়োগের এখনই উপযুক্ত সময়। অথচ যেখানে ১০ বস্তা সার প্রয়োজন, সেখানে হাত গুনে মাত্র ২ বস্তা করে দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে জমিতে সার না দিতে পেরে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ভুগছেন তারা।

তদারকিতে কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিনয় কুমার সরেজমিনে গিয়ে সার বিক্রির কার্যক্রম প্রত্যক্ষ তদারকি করেন।

কৃষি কর্মকর্তা বিনয় কুমার বলেন:

"খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তদারকি শুরু করি। কোনো সার লুকিয়ে রাখা বা কালোবাজারির সুযোগ দেওয়া হবে না। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে পুরো ৭১ টন সারই কৃষকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"

তবে ডিলার আব্দুস সাত্তার নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, "আমি যে পরিমাণ সার হাতে পেয়েছি, তা দিনের মধ্যেই বিতরণ শেষ করব। চাহিদার তুলনায় ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কম থাকলে সেখানে আমার কিছু করার নেই।"

পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক
সার বিতরণ কার্যক্রমে অতিরিক্ত ভিড় ও হট্টগোলের বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, পরিস্থিতি যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত দিকে না যায় সেজন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে তদারকি নিশ্চিত করে সার বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।

ফসলের বাম্পার ফলন ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সার বিক্রিতে স্বচ্ছতা আনাসহ নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।