১৫ অক্টোবর, ২০২৬

বিনামূল্যে শিশু পরিচর্যা কর্মসূচি চালু করতে কর বাড়ানোর পক্ষে মামদানি ও মেনিন

বিনামূল্যে শিশু পরিচর্যা কর্মসূচি চালু করতে কর বাড়ানোর পক্ষে মামদানি ও মেনিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে সর্বজনীন শিশু পরিচর্যা কর্মসূচি চালু করার লক্ষ্যে ধনী ব্যক্তি ও বড় করপোরেশনের ওপর কর বাড়ানোর জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন। সম্প্রতি একটি নীতিবিষয়ক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি জানান, শিশুদের সুরক্ষায় করের হার বৃদ্ধি করা হলে তা সামগ্রিকভাবে শহরের অর্থনীতির জন্যই লাভজনক প্রমাণিত হবে। এর ফলে নতুন কর্মী ও মেধাবীরা নিউইয়র্কে আসার জন্য উৎসাহিত হবেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। মেনিনের এই অবস্থানের ফলে মেয়র জোহরান মামদানি তার এই महत्त्वाকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক মিত্র লাভ করলেন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোন খাতের কর ঠিক কতটা বাড়ানো উচিত, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চূড়ান্ত রূপরেখা বা প্রস্তাব পেশ করেননি।

মেয়র মামদানির নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল এই সর্বজনীন শিশু পরিচর্যা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে শহরের প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত ও অবৈতনিক পরিচর্যা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছর গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র মামদানি যৌথভাবে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য এই প্রকল্পের প্রথম ধাপের অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে এই বিশাল প্রকল্পের খরচ কীভাবে মেটানো হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শরৎকালের মধ্যে শহরজুড়ে প্রায় ১০ হাজার নতুন আসন চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দিনে এই কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে বছরে শত শত কোটি ডলারের প্রয়োজন হতে পারে, যা শহরের বিদ্যমান আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

স্পিকার জুলি মেনিনের এমন মন্তব্যের ফলে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের ওপর রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় পুনর্নির্বাচনকে সামনে রেখে গভর্নর হোকুল এতদিন পর্যন্ত কর্পোরেট বা উচ্চবিত্তের ওপর নতুন কর আরোপের বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক ও রক্ষণশীল অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। তবে মেনিনের পাশাপাশি শহরের নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মার্ক লেভিন এবং পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামসও আগামী বছর বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় কর বাড়ানোর পক্ষে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। আগামী বছরের অঙ্গরাজ্য বাজেট প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রাক্কালে শীর্ষস্থানীয় এই নেতাদের যৌথ অবস্থান কর বৃদ্ধির বিতর্ককে পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে কর বাড়ানোর এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও করপোরেট প্রতিনিধিরা। পার্টনারশিপ ফর নিউইয়র্ক সিটির প্রধান স্টিভেন ফুলপ সতর্ক করে বলেছেন যে, ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হলে বড় ব্যবসাগুলো শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারে। অন্যদিকে সিটিজেনস বাজেট কমিশনের প্রধান অ্যান্ড্রু রেইন মনে করেন, সরকারি অনুদান সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে কেবল অতিদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দ করা উচিত। তা সত্ত্বেও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকরা সর্বজনীন সুবিধার পক্ষে জোরালো অবস্থান বজায় রেখেছেন, যা শেষ পর্যন্ত মেয়র মামদানি ও গভর্নর হোকুলের মধ্যকার নীতিনির্ধারণী আলোচনার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হবে।