১৫ অক্টোবর, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা-সহকারীরা কী করছেন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা-সহকারীরা কী করছেন

রাজনীতি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকারে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার পর বর্তমানে এই সংখ্যা ৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। সংবিধান ও সরকারের রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, নির্বাহী আদেশে নিয়োগ পাওয়া এই উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। সরকারের কাজের গতি বৃদ্ধি এবং নীতি ও কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তাদের এই বড় পরিসরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের এই বিশেষজ্ঞরা রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এসব উপদেষ্টাদের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ মুখেরা রয়েছেন। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময় উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমান প্রশাসন কাজের পরিধি ও গুরুত্ব বিবেচনায় এই সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।

উপদেষ্টাদের কার্যপরিধি ও দাপ্তরিক বসার স্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা কৌতূহল রয়েছে। জানা গেছে, তাদের অনেকেই সচিবালয়ের স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ে নির্ধারিত কার্যালয় থেকে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আবার কেউ কেউ তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন। উদাহরণস্বরূপ, অর্থনীতি ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর অর্থ মন্ত্রণালয়ে অফিস করেন, আর শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত দপ্তরে বসেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর নীতি নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয় সাধনে তারা নিয়মিত সময় দিচ্ছেন।

রাজনীতিবিদ এবং জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারাও নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। প্রবীণ রাজনীতিক নজরুল ইসলাম খান কৃষি মন্ত্রণালয় তদারকির পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়াদি দেখভাল করছেন, অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভী শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন। যদিও উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা সাধারণত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের এখতিয়ারভুক্ত নন, তবে তাদের স্ব স্ব মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কোনো এজেন্ডা থাকলে তারা বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন। সরকারের বিভিন্ন খাতের এই সমন্বিত কার্যক্রম রাষ্ট্র পরিচালনাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তুলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।