১৫ অক্টোবর, ২০২৬

রপ্তানির গতি বাড়াতে প্রণোদনার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়

রপ্তানির গতি বাড়াতে প্রণোদনার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাতকে আরও গতিশীল করতে এবং নগদ প্রণোদনা বিতরণের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় করেছে সরকার। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে রপ্তানি প্রণোদনা বাবদ ৫০০ কোটি টাকা ছাড়করণের আনুষ্ঠানিক ডেবিট অথরিটি জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তৈরি পোশাক, হিমায়িত চিংড়ি, চামড়াজাত পণ্যসহ সরকারের অনুমোদিত বিভিন্ন খাতের বকেয়া নগদ সহায়তা দ্রুত পরিশোধের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিধারকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে দেশের সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে এবং বৈশ্বিক বাজারে উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে।

অর্থ বিভাগের ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতের বরাদ্দ থেকে এই তহবিল স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়ে সম্প্রতি সিজিএ অফিস থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ বরাদ্দ থেকে মাছ, হিমায়িত চিংড়ি, সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং দেশি বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের নগদ প্রণোদনা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাক বা আরএমজি খাতের বিশেষ এক শতাংশ নগদ সহায়তা কর্মসূচির অর্থও এই তহবিল থেকেই দেওয়া হবে। তবে অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সব ধরনের শর্ত ও নিয়মকানুন কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন খাতের রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি একক মাসে প্রায় ৩০৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। এছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে। তবে কিছু খাতে সামান্য নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও সামগ্রিক রপ্তানি চিত্রের গতিপ্রকৃতি বেশ আশাব্যঞ্জক বলেই মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনার হার সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রণোদনা কার্যক্রমে খাতভিত্তিক কভারেজ এবং প্রণোদনার হার আগের অর্থবছরের মতো বহাল রাখা হয়েছে। দেশের প্রায় ৪৩টি রপ্তানি পণ্যের বিপরীতে শূন্য দশমিক ত্রিশ শতাংশ থেকে শুরু করে দশ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন হারে এই নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের এই সময়োপযোগী নীতি সহায়তার ফলে দেশের রপ্তানিকারকরা তাদের কার্যক্রম আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।