১৫ অক্টোবর, ২০২৬

২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার সরকারের

২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার সরকারের

জাতীয় ডেস্ক: দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করে তুলতে আগামী দুই বছরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এই বিশেষ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রাম এবং রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে হেলমেটের মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, যানবাহনের গতিসীমা কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং মহাসড়কগুলোতে নিরাপদ লেন তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া দুর্ঘটনা পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিশেষ অতিথিরা বিদ্যমান সড়ক ব্যবস্থাপনার নানা ত্রুটি বিচ্যুতি তুলে ধরে সার্বিক সংস্কারের দাবি জানান। পরিবহন খাতের বিভিন্ন অনিয়ম দূর করতে প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মালিক, শ্রমিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব তার বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।

আলোচনায় বক্তারা মূলত ’সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ বা নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার ধারণা বাস্তবায়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। তাদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা আকস্মিক কোনো ঘটনা নয় বরং এটি সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। নির্দিষ্ট কোনো দিবসের গণ্ডি পেরিয়ে সারা বছরব্যাপী নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাণহানির হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়।