কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক পরিবারের আলোকপ্রদীপ ১৩ বছরের কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জট মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই খুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত পুরো চক্রটিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত চারজনই আদালতে অপরাধ স্বীকার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত শুক্রবার দুপুরে বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। সে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল সে। দীর্ঘ ২২ ঘণ্টার উৎকণ্ঠা শেষে গত শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের গভীর জঙ্গল থেকে পুলিশ তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে।
রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দ্রুততম সময়ে হত্যার ক্লু উদ্ধার ও আলামত জব্দ করায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ১২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের ধরা গেছে। নিহত অপ্রতিমের চেয়ে বয়সে ৫ থেকে ১০ বছরের বড় কিছু তরুণ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, যারা মূলত কিশোর অপরাধী চক্রের মতো কাজ করেছে। তাদের সাথে নিহত শিশুর চেনাজানা ও ওঠাবসা ছিল।”
পুলিশের হস্তক্ষেপে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। পল্লবীর আলোচিত শিশু হত্যা মামলার মতো এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রস্তুত করে বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সমাজের অব্যাহত নৈতিক অবক্ষয় ও কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অপরাধের পেছনে প্রায়ই মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা দেখা যাচ্ছে। সমাজ থেকে এ ব্যাধি দূর করতে হলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করার বিকল্প নেই।
সন্তানহারা শিক্ষক মা নাহিদা বেগম ও বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের আহাজারিতে এখন ভারি কোটবাড়ির বাতাস। অপ্রতিমের জানাজায় কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবা উচ্চারণ করেন এক মর্মান্তিক আকুতি— “আর কোনো বাবাকে যেন এভাবে সন্তান হারাতে না হয়।” ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক ও দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী শাস্তির দাবিতে স্তব্ধ গোটা কুমিল্লা।