১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গুদামে অবৈধভাবে সার মজুত, দুই ব্যবসায়ির কারাদণ্ড

গুদামে অবৈধভাবে সার মজুত, দুই ব্যবসায়ির কারাদণ্ড

অসাধু ব্যবসায়ীর গুদামে অবৈধভাবে মজুত করা ২৬১ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ মজুত ও উচ্চ মূল্যে সার বিক্রি করায় অর্থ ও কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে চার ব্যবসায়ীকে। মঙ্গলবার গভীর রাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বড়গ্রাম বাজারে এই অভিযান চালনো হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই অভিযানে অভিযুক্ত চার ব্যবসায়ির মধ্যে দুইজনকে অর্থদণ্ড এবং দুই ব্যবসায়িকে  অর্থদণ্ড ও কারা দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া তথ্য বলছে, চার ব্যবসায়ির দোকানে অবৈধভাবে সার মজুত ছিল। এসব সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের কাছে বিক্রি না করে নিয়ম ভঙ্গ করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম অভিযান চালিয়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন ও ভোক্তা অধিকার আইনে সাজা দেন।

এ সময় ব্যবসায়ি সোহেল হোসেনের দোকান থেকে ৮ বস্তা সার জব্দ করে তাঁকে ১০ হাজার টাকা, আব্দুস সালামের দোকানে ৫৩ বস্তা জব্দ করে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একই সঙ্গে আবুল হাসেমের দোকানে ৫৩ বস্তা সার জব্দ করে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং মোবারকের দোকান থেকে ১৪৭ বস্তা সার জব্দ করে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসানও উপস্থিত ছিলেন।

এই এলাকার কৃষকেরা অভিযোগ করেন, কিছু ব্যবসায়ি কৃষকদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্য নিয়ে সার বিক্রি করেন। কৃষকেরাও বাধ্য হয়ে উচ্চ মূল্যেই সার কিনছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওই ডিলাররা নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাজারের এবং আশপাশের এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করছেন। আবার কিছু কিছু সময় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে কৃষকের কাছে সার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে । চলতি মওসুমে নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সহজলভ্য সার কিনতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি তাদের।

কৃষকরা আরো বলেন, চলনবিলের পানি এখন ভাটির টান। কৃষকেরা ধানসহ নানা ধরনের ফসল চাষ করছেন।  এতে সার কীটনাশকের চাহিদা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। এ কারণে ডিলারদের কাছে গিয়েও সার মিলছে না। কোন কোন ডিলারের কাছে সার পাওয়া গেলেও তা সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে না। এতে করে চাষাবাদ নিয়ে হুমকির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা। কিছুদিনের মধ্যেই রবি মৌসুম শুরু হলে এই অঞ্চলে সারের চাহিদা বেড়ে যাবে বহু গুণে। ন্যায্য মূল্যে সার কৃষকের হাতে সার তুলে দিতে প্রশাসনের এই অভিযান নিয়মিত চান তারা।

তারা বলেন, বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলাররা বেশি দামে সার বিক্রি করতে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন। এসব ডিলারদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখলে তবেই কৃষকরা চাষাবাদের জন্য ন্যায্য মূল্যে সার পাবেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম বলেন, অবৈধভাবে মজুত ও উচ্চ মূল্যে সার বিক্রির কথা শুনে কৃষি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছেন তিনি। অভিযানে চার ব্যবসায়িকে অর্থ ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।