১৯ আগস্ট, ২০২৬

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের বিশেষ বৈঠকে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বৈঠকে বিদায়ী বক্তব্য রাখতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন সদ্য সাবেক মহাসচিব ও দলীয় রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিদায়ী বক্তব্যে আবেগপ্লুত মির্জা ফখরুল

বৈঠকে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিতর্পণ করতে গিয়ে কয়েকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা: বক্তব্যে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ক্ষমা প্রার্থনা: দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।

অঙ্গীকার: রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, বঙ্গভবনে গেলেও সহকর্মীদের মিস করবেন। জীবন দিয়ে হলেও অর্পিত সম্মান ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পর দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান: দলীয় দুঃসময়ে মির্জা ফখরুলের সাহসিকতা ও অবদানের কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে তাঁকে ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।

জবাবদিহি ও ঐক্য: দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য। এই মুহূর্তে দলীয় ঐক্য অটুট রাখা এবং সুশৃঙ্খল থাকার কোনো বিকল্প নেই।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সতর্কবার্তা: প্রতীক ছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে তিনি বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। কোনোভাবেই যেন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী না হন, সে বিষয়ে এখন থেকেই কাজ করার নির্দেশ দেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বিজয়ী করে আনার আহ্বান জানান।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির স্বাগত বক্তব্য ও ভোটদান প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে শুরু হওয়া এ বৈঠকে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের স্থায় কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অশ্রুসিক্ত বিদায় এবং কঠোর সাংগঠনিক বার্তা—এই দুইয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয় বিএনপির সংসদীয় দলের এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।