৬ আগস্ট, ২০২৬

মেঘনার ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

মেঘনার ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের সেলিম বাজার ও কালাদুর এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নদীকূলে আয়োজিত এই মানববন্ধনে ওই এলাকার হাজারো ভুক্তভোগী মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ১৭ মে পানিসম্পদমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এলাকা পরিদর্শন করে জিও ব্যাগ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বরাদ্দ সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কাজ শুরু না করায় ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে আরও দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকা। ফলে শত শত বসতভিটা, হাজার একর ফসলি জমি, গাছপালা ও স্থানীয় বাজার চরম ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সম্প্রতি তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হলেও তাতে নকশা ও নিয়ম মানা হয়নি। নিজেদের খেয়ালখুশি মতো অপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করায় বাধ্য হয়ে তারা প্রতিবাদে নেমেছেন। দ্রুত সময়মতো প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন, অনিয়মের তদন্ত এবং ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পানিসম্পদমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের সেলিম বাজার ও সৈয়দপুর এলাকার মোট ৮০০ মিটার নদীভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোস্তফা অ্যান্ড সন্স’। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম কিরণ হলেও, তার লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি পরিচালনা করছেন একই দলের অন্য দুই নেতার পক্ষে প্রতিনিধি মো. ফরহাদ।

পাউবো সূত্র আরও জানায়, কার্যাদেশ পেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনো চূড়ান্ত নকশা সরবরাহ করা হয়নি। কিন্তু পাউবো কর্মকর্তাদের না জানিয়ে এবং নকশা ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ইচ্ছেমতো জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয়রা খেয়াল করে প্রতিবাদ জানালে সরেজমিনে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায় এবং কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কাজে ত্রুটির কথা স্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. ফরহাদ বলেন,“স্থানীয়দের তাগিদ থাকায় কাজ শুরু করা হয়েছিল। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আমাদের কাজ বুঝিয়ে দিলেও মূল নকশা সরবরাহ করেননি। বিতর্ক ওঠায় বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। শীঘ্রই প্রকল্পের স্থানে পন্টুন এনে নতুন করে কাজ শুরু করা হবে।”

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল জানান, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভেঙে নকশা ছাড়াই খেয়ালখুশিমতো জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রকল্পের নকশা ও নিয়ম মেনে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।”