নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদীতে এক দুবাই প্রবাসীর বাসায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, নগদ টাকা লুট এবং ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে এক সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, ৪০ পিস ইয়াবা, লুণ্ঠিত নগদ টাকা এবং দুটি মোটরসাইকেল।
মঙ্গলবার বিকেলে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ‘হক ম্যানশন’ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ওই সন্ত্রাসীর নাম আনোয়ার হোসেন টিটু (৩১)। সে বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের নুর আলমের ছেলে। পুলিশের খাতায় সে একজন চিহ্নিত অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক ও চুরিসহ বেগমগঞ্জ থানায় ৭টি মামলা রয়েছে।
"চাঁদাবাজির খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ভবনটি ঘেরাও করি। এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামিকে পিস্তল ও গুলিসহ হাতেনাতে ধরা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির পৃথক মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।"
— মো. নজরুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সুধারাম মডেল থানা
যেভাবে পরিচালিত হয় অভিযান ও অপরাধের চিত্র:
ভবন ঘেরাও ও আটক: খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর ও সুধারাম থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ দল হক ম্যানশনে অভিযান চালায়। ভবনের সিঁড়ি থেকে সন্দেহভাজন অবস্থায় টিটুকে আটক করে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে লোডেড পিস্তল, ইয়াবা ও টাকা।
জিম্মি করে তাণ্ডব: ভুক্তভোগী গৃহবধূ নাঈমা আক্তার (১৮) জানান, টিটু তার দুই সহযোগীকে নিয়ে ঘরে ঢুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা খালি স্ট্যাম্পে সই নেয় এবং ঘরের নগদ ২৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
সহযোগীদের চম্পট: পুলিশের আগমন টের পেয়ে টিটুর দুই সহযোগী কৌশলে পালিয়ে গেলেও নিচ থেকে তাদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।