৩ আগস্ট, ২০২৬

টানা ছয় মাস পর কমলো প্রবাসী আয়, সংকটে অর্থনীতি

টানা ছয় মাস পর কমলো প্রবাসী আয়, সংকটে অর্থনীতি

টানা ছয় মাস তিন বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড উচ্চতা ছোঁয়ার পর দেশের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে হঠাৎ ভাটার টান দেখা দিয়েছে। গত মে মাসের পর জুন ও জুলাই—পর পর দুই মাস প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, বিদায়ী জুলাই মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২৮৬ কোটি (২.৮৬ বিলিয়ন) ডলার। তার আগের মাস জুনেও এসেছে ২৮২ কোটি ডলার।

হঠাৎ রেমিট্যান্সের এই নিম্নমুখী প্রবণতায় চিন্তার ভাজ পড়েছে দেশের ব্যাংকিং খাত ও নীতি নির্ধারকদের কপালে। কারণ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটানোর অন্যতম প্রধান ভরসাস্থলই হলো প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ।

বিগত মাসগুলোর রেমিট্যান্স চিত্র
মাস    অর্জিত প্রবাসী আয় (মার্কিন ডলারে)
জুলাই    ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ
জুন    ২৮২ কোটি
মে    ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ
এপ্রিল    ৩১২ কোটি ৭০ লাখ
মার্চ    ৩৭৫ কোটি (বছরের সর্বোচ্চ)
অবশ্য মাসভিত্তিক হিসেবে কিছুটা পতন দেখা গেলেও, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধির সূচক এখনো ইতিবাচক। গত বছরের জুলাইয়ে অর্জিত ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫.৪ শতাংশ। বরাবরের মতোই প্রবাসী আয় সংগ্রহের শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক, যার ঠিক পরেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।

কেন কমলো প্রবাসী আয়?
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, হুট করে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করছে:

বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নজরদারি: খোলাবাজারে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো বাড়তি দামে রেমিট্যান্স কেনা শুরু করে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্ত অবস্থান নিয়ে তদারকি বাড়ালে ব্যাংকগুলোর ডলার ক্রয়ের গতি ধীর হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে সার্বিক আয়ে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে ডলারের দামে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে, যা প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে পরোক্ষ মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে।

অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা ও নীতি সুদহার বিতর্ক
আসন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখার কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশের শীর্ষ আট অর্থনীতিবিদ। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক সংকট ঘনীভূত হলে রিজার্ভের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হবে। তাই আপাতত রিজার্ভ ধরে রাখাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি বাজার স্থীতিশীল না হওয়া পর্যন্ত নীতি সুদহারে হাত না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁরা।

তবে সেই পরামর্শের বিপরীতে হেঁটে ব্যাংক ঋণের গতি ও বিনিয়োগ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আজ থেকেই কার্যকরী হচ্ছে। ব্যাংকারদের মতে, সুদহার হ্রাস ও রেমিট্যান্সের টানা পতন—এই দুইয়ের সমন্বয়ে আগামী দিনগুলোতে ডলারের বাজার কেমন রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।