মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা (NEET)-র প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে ভারতজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলন ও বিরোধী দলগুলোর তোপের মুখেও পদত্যাগ করছেন না দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীদের তীব্র দাবির তোয়াক্কা না করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে, এ মুহূর্তে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো সুযোগ নেই এবং সরকার তাঁর পাশেই দাঁড়াচ্ছে।
উচ্চপর্যায়ের এক সরকারি সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ‘এই পরিস্থিতিতে কাউকে পদত্যাগ করানো হয়তো সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত হতে পারত, কিন্তু সরকার কোনো সাময়িক চাপ বা পলায়নপর মনোভাবে বিশ্বাসী নয়। মন্ত্রী তাঁর জায়গায় থেকে পরিস্থিতি সামলাবেন।’
বর্তমানে দিল্লির রাজপথ থেকে শুরু করে যন্তর মন্তর—সবখানেই ইন্ডিয়া জোট ও বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠনের উত্তাল বিক্ষোভ চলছে। ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ ও এনটিএ-র (ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি) আমূল সংস্কারের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার হুঙ্কারও দিয়েছেন তরুণ নেতারা।
সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন:
"জনগণ আমাদের দেশ পরিচালনার এবং সংকট সমাধানের দায়িত্ব দিয়েছে, সরকার সেটিই করবে। এনটিএ-র অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে খুব দ্রুত স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রশ্নফাঁস চক্রের বেশ কয়েকজন মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তদন্ত আরও জোরদার করা হবে।"
এদিকে পদত্যাগের জল্পনা উড়িয়ে যথারীতি দৈনন্দিন রাজনৈতিক ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পোস্ট রি-শেয়ার করেছেন, যেখানে প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওড়িশার সংসদ সদস্যদের নিয়ে শিক্ষা বিষয়ক সভা ও রাজ্যগুলোর শিক্ষামন্ত্রীদের দুদিনের জাতীয় সম্মেলনে অংশ নেওয়ার মতো নিয়মিত সব কার্যক্রমে উপস্থিত রয়েছেন তিনি।