২৪ জুলাই, ২০২৬

শারীরিক অসামর্থ্য দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ

শারীরিক অসামর্থ্য দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ

রাজনীতি ও শাসনের দীর্ঘ টানা-পোড়েন, নানা ঘাত-প্রতিঘাত আর রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর অবশেষে বঙ্গভবনের অধ্যায় চুকে গেল। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি নিশ্চিত করেছেন এই ঐতিহাসিক বিদায়ের সংবাদ।

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবিতে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল হয়ে উঠেছিল। বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের মতো অভূতপূর্ব দৃশ্যও দেখেছে দেশ। তবে সংবিধানের ধারা বজায় রাখা এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামতের ওপর ভিত্তি করে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল নির্বাচন আয়োজন পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করে যান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অবশেষে এই বিদায় আসলো।

স্পিকারের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি তাঁর শারীরিক জটিলতার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। দীর্ঘদিনের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি সমস্যার পাশাপাশি নতুন করে ধরা পড়া 'অটোনমিক নিউরোপ্যাথি' (Autonomic Neuropathy) নামক স্নায়বিক জটিলতাকে পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, এই রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে ক্ষণিক সচেতনতা হারিয়ে ফেলছেন, যা রাষ্ট্রপ্রধানের মতো গুরুদায়িত্ব পালনের পক্ষে এক বড় বাধা।

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক সংকটের মুখে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়া সচল রাখতে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। তবে বর্তমান শারীরিক অসামর্থ্যের কারণে সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন সরকার ও বিরোধী দলের নিজ নিজ ভূমিকা পালনের এই সুবাতাসের মাঝেই মো. সাহাবুদ্দিনের এই প্রস্থান দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গভবনের পরবর্তী অভিভাবক কে হচ্ছেন—এখন দেশবাসীর নজর সেদিকেই।