ভারতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দাব আদায়ের আন্দোলন দমাতে এবার চরম নতিস্বীকারের পথ বেছে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। মহারাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের ওপর চলমান নিপীড়নের ধারাবাহিকতায় এবার আন্দোলনকারীদের ‘মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে জীবন ধ্বংস করে দেওয়া’র মারাত্মক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুম্বাই পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে আসা একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ নিয়ে রাজ্যজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম উত্তেজনা ও বিতর্ক।
৫০ গ্রাম পাউডার ও ধ্বংসপ্রাপ্ত জীবনের তোপ!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, রাজপথে অবস্থানরত একদল শিক্ষার্থীকে এক পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি হুমকি দিচ্ছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া গলায় বলেন,
“তোদের ব্যাগে ৫০-৫০ গ্রাম পাউডার (মাদক) ঢুকিয়ে দেব। তোদের জীবন এক নিমেষে শেষ হয়ে যাবে।”
প্রকাশ্যে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন ভাষায় হুমকি ছড়িয়ে পড়ার পর তা সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। মুম্বাই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমালোচনা।
ডিজিটাল নজরদারি ও মধ্যরাতের আতঙ্ক
প্রতিবাদ সামলাতে কেবল প্রথাগত লাঠিপেটা বা আটক নয়, এবার ডিজিটাল নজরদারির চরম পথ বেছে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন: আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং তাঁরা ঘরে আছেন কি না নিশ্চিত করতে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে সার্বক্ষণিক ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠাতে বাধ্য করা হচ্ছে।
ভোররাতের নোটিশ: ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ৩৫(৩) ধারা ব্যবহার করে গভীর রাতে মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে আইনি নোটিশ পাঠানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের, যা রীতিমতো মানসিক নিপীড়নের শামিল বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
সোচ্চার বিরোধী দল, কোণঠাসা পুলিশ
ভিডিওটি নিজেদের অফিসিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে প্রকাশ করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মুম্বাই কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কেবল ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত। প্রতিবাদীদের হুমকি না দিয়ে সরকার ও পুলিশের উচিত তাঁদের যৌক্তিক প্রশ্নের জবাব দেওয়া।
অন্যদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশি লাঠিপেটা এবং মুম্বাইয়ের এই প্রশাসনিক নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে শিব সেনা (ইউবিটি)। রাজপথে ছাত্র-জনতার উত্তাল তরঙ্গে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে মহারাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা।
সাময়িক বরখাস্ত ও প্রশাসনিক তদন্ত
চাপে পড়ে তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মুম্বাই পুলিশ প্রশাসন। ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে এবং পেছনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলায় আপাতত ইউনিফর্ম পরা অভিযুক্ত ওই গাড়িচালক পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
তবে সমালোচকদের মতে, চুনোপুঁটি বরখাস্ত করে এই প্রাতিষ্ঠানিক দমনপীড়ন ঢাকা যাবে না। আন্দোলনের দাবানল যেভাবে রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করার কৌশল কতটুকু সফল হবে—তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন।