পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জাতীয় রাজনীতিতে বইছে তীব্র ঝড়ের আভাস। তরুণ ও পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠনের বড় ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
এক্স-এ সিজেপির এক দফা দাবি
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় সিজেপি। সংক্ষিপ্ত তবে চাঁচাছোলা এক পোস্টে দলটি সরাসরি দাবি করে:
“ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।”
সিজেপির স্পষ্ট বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই বিশাল কেলেঙ্কারির দায় কোনোভাবেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এড়াতে পারেন না। তাই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আগে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত।
মোদির কড়া বার্তা: ‘কাউকেই ছাড় নয়’
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন:
ভবিষ্যতের অগ্রাধিকার: "আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না।"
কঠোর পদক্ষেপ: শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জিরো টলারেন্স: যারা দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
রাজপথে আন্দোলনের আগুন
এদিকে প্রশ্নফাঁস ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলন রূপ নিয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনায়। যন্তর মন্তরের মূল চত্বর শান্ত থাকলেও সংসদ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বেশ কিছু অংশে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখা হয়। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদবের মতো বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনা রাজপথের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিচারবিভাগীয় তৎপরতা ও বিরোধীদের অনড় অবস্থানের মুখে মোদি সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে পুরো দেশ।