রাজনৈতিক উত্তাপের পারদ এখন তুঙ্গে রাজধানী দিল্লিতে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাক দেওয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে নগরজুড়ে। যন্তর মন্তরের মূল মূল চত্বর শান্ত থাকলেও সংসদ মার্গ এলাকা রূপ নেয় রণক্ষেত্রে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি দিল্লির যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সংসদ মার্গে রণক্ষেত্র, আহত ৫ পুলিশ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংসদ মার্গ এলাকায় অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া দেয়।
পার্ক হোটেল সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের একদল উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে দুই সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি), একজন পরিদর্শক, একজন প্রধান কনস্টেবল ও একজন কনস্টেবলসহ অন্তত ৫ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
"সহিংসতা আমাদের আন্দোলনের আসল লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সবাইকে শান্ত থেকে অহিংস উপায়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।"
— আন্দোলনের একজন স্বেচ্ছাসেবক (পুলিশের লাউডস্পিকারে)
সহিংসতা থামাতে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য নেয় পুলিশ। লাউডস্পিকার চালিত বাসে চেপে মাইকিং করে বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার বার্তা দেওয়া হয়।
শীর্ষ বিরোধী নেতারা আটক
সরকারের পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে শীর্ষ বিরোধী নেতাদের আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন:
রাহুল গান্ধী (কংগ্রেস নেতা)
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (কংগ্রেস নেত্রী)
অখিলেশ যাদব (সমাজবাদী পার্টি প্রধান)
এই আটকের পর রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
ইন্টারনেট ও মেট্রো চলাচলে কড়াকড়ি
নিরাপত্তার স্বার্থে যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিতের নির্দেশনা জারি করা হয়। এয়ারটেল, জিও এবং ভি-এর মতো প্রধান টেলিকম অপারেটরগুলো সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ রাখে, যা পরে আবার সচল করা হয়।
অন্যদিকে ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকায় সাধারণ নগরবাসীকে তীব্র ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
বিচার বিভাগের নজরদারি, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চাপ এবং রাজপথের উত্তাপ—সব মিলিয়ে ভারতের রাজনীতি এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে দিল্লির এই সংকট কত দ্রুত প্রশমিত হয়।